empty
 
 
20.02.2026 07:25 AM
২০ ফেব্রুয়ারি কীভাবে EUR/USD পেয়ারের ট্রেডিং করবেন? নতুন ট্রেডারদের জন্য ট্রেডিংয়ের সহজ পরামর্শ ও বিশ্লেষণ

বৃহস্পতিবারের ট্রেডিংয়ের পর্যালোচনা:

EUR/USD পেয়ারের 1-ঘন্টার চার্ট

This image is no longer relevant

বৃহস্পতিবার আবারও নিম্নমুখী প্রবণতার সাথে EUR/USD কারেন্সি পেয়ারের ট্রেড করা হয়েছে, এবং এই ধরনের মুভমেন্টের পেছনে দৃঢ় কোনো কারণ দেখা ছিল না। মার্কিন ডলারের দর বৃদ্ধি পেয়েছে, তবে এমন মুভমেন্টের পেছনে দৃঢ় কোনো মৌলিক বা সামষ্টিক অর্থনৈতিক কোনো ভিত্তি ছিল না। যদিও এই সপ্তাহে ব্রিটিশ মুদ্রার দরপতনের জন্য যথেষ্ট কারণ ছিল, তবে ইউরোর দরপতনের জন্য তেমন কোনো ভিত্তি ছিল না। গতকাল প্রকাশিত স্বল্প গুরুত্বসম্পন্ন মার্কিন প্রতিবেদনের অপেক্ষাকৃত ইতিবাচক ফলাফলের কারণে মার্কিন ডলারের দর বৃদ্ধি পেয়েছে বলে ধারণা করা যায়। তবে গতকাল কেবল আমএমপ্লয়মেন্ট ক্লেইমস সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে, এবং এটি প্রকাশের আগেই মার্কিন ডলারের দর ইতোমধ্যে আরও 50 পিপস বৃদ্ধি পায়। সুতরাং, বর্তমান মুভমেন্টগুলোকে কেবল টেকনিক্যাল কারণগুলোর মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা যায়, প্রধানত লোয়ার টাইমফ্রেমগুলোতে। ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে আমরা একটি ডিসেন্ডিং চ্যানেল দ্বারা সমর্থিত নিম্নমুখী প্রবণতা দেখছি। এই পেয়ারের মূল্য ঐ চ্যানেলের মধ্যেই মুভমেন্ট প্রদর্শন করছে। একই সময়ে, দৈনিক টাইমফ্রেমে বৈশ্বিক পর্যায়ে উর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত আছে।

EUR/USD 5M পেয়ারের চার্ট

This image is no longer relevant

বৃহস্পতিবার ৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে শুধুমাত্র একটি ট্রেডিং সিগন্যাল গঠিত হয়। মার্কিন ট্রেডিং সেশনে এই পেয়ারের মূল্য 1.1745-1.1754 রেঞ্জ থেকে প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে বাউন্স করেছে। এই সিগন্যালের পর এই পেয়ারের মূল্য খুব দুর্বলভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, এবং বুধবার 1.1830-1.1837 এরিয়ায় সৃষ্ট সেল সিগন্যালের পরে এই পেয়ারের মূল্য নির্ধারিত এরিয়ায় পৌঁছেছে।

শুক্রবার কীভাবে ট্রেডিং করতে হবে:

ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে এই পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী কারেকশন অব্যাহত আছে, যা শীঘ্রই পুনরায় উর্ধ্বমুখী প্রবণতায় রূপ নিতে পারে। ২০২৬ সালের শুরুতে দীর্ঘমেয়াদি উর্ধ্বমুখী প্রবণতা পুনরায় শুরু হওয়ায় আমরা নতুন করে ইউরোর দর বৃদ্ধির প্রত্যাশা করছি। সামগ্রিক মৌলিক প্রেক্ষাপট মার্কিন ডলারের জন্য অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং রয়ে গেছে, ফলে আমরা সম্পূর্ণভাবে এই পেয়ারের মূল্যের আরও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার প্রত্যাশা করছি।

শুক্রবার, এই পেয়ারের মূল্য 1.1745-1.1754 এরিয়ার নিচে কনসোলিডেশন করলে নতুন ট্রেডাররা নতুন শর্ট পজিশন বিবেচনা করতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.1655-1.1666 এরিয়ার দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। এই পেয়ারের মূল্য 1.1745-1.1754 এরিয়ার কাছ থেকে বাউন্স করলে লং পজিশন ওপেন করা যেতে পারে, যেখানে মূল্যের 1.1830-1.1837-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।

৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে, ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা উচিত: 1.1455-1.1474, 1.1527-1.1531, 1.1550, 1.1584-1.1591, 1.1655-1.1666, 1.1745-1.1754, 1.1830-1.1837, 1.1899-1.1908, 1.1970-1.1988, 1.2044-1.2056, 1.2092-1.2104। আজ ইউরোজোনে ফেব্রুয়ারি মাসের পরিষেবা ও উৎপাদন খাতের বাণিজ্যিক কার্যক্রম সূচক সম্পর্কিত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক প্রকাশিত হবে, এবং জার্মানিতেও এই ধরনের কয়েকটি সূচক প্রকাশিত হবে। যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবসায়িক কার্যক্রম সূচকগুলোর পাশাপাশি কোর PCE সূচক, চতুর্থ প্রান্তিকের প্রাথমিক জিডিপি, মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কনজিউমার সেন্টিমেন্ট সূচক এবং মার্কিন ভোক্তাদের ব্যক্তিগত আয় ও ব্যয় সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে। অনেকগুলো প্রতিবেদন প্রকাশের কথা থাকায় আজ মার্কেটে সম্ভবত উচ্চমাত্রার অস্থিরতা বিরাজ করতে পারে।

ট্রেডিং সিস্টেমের মূল নিয়মাবলী:

  1. সিগনালের শক্তি: যত দ্রুত একটি সিগন্যাল (রিবাউন্ড বা ব্রেকআউট) গঠিত হয়, সিগন্যালটিকে ততই শক্তিশালী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
  2. ভুল সিগন্যাল: যদি কোনো লেভেলের কাছে দুই বা ততোধিক ভুল ট্রেডিং সিগনাল গঠিত হয়, তাহলে ঐ লেভেল থেকে প্রাপ্ত পরবর্তী সিগন্যালগুলোকে উপেক্ষা করা উচিত।
  3. ফ্ল্যাট মার্কেট: যখন মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্ট দেখা যায়, তখন পেয়ারগুলোতে একাধিক ভুল সিগন্যাল গঠিত হতে পারে অথবা কোনো সিগন্যাল না-ও গঠিত হতে পারে। মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্টের ইঙ্গিত পাওয়ামাত্র ট্রেডিং বন্ধ করে দেওয়াই ভালো।
  4. ট্রেডিংয়ের সময়সূচী: ইউরোপীয় সেশন শুরু থেকে মার্কিন সেশনের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ট্রেড ওপেন করুন এবং এরপর সকল ট্রেড ম্যানুয়ালি ক্লোজ করে ফেলুন।
  5. MACD সিগন্যাল: ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে কেবল সেই MACD সিগন্যালগুলোর ওপর ভিত্তি করে ট্রেড করুন, যেগুলো উচ্চ মাত্রার অস্থিরতা এবং ট্রেন্ডলাইন বা ট্রেন্ড চ্যানেলের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রবণতা হিসেবে বিবেচিত।
  6. নিকটতম লেভেল: যদি দুটি লেভেল খুব কাছাকাছি (৫–২০ পিপসের মধ্যে) অবস্থিত হয়, তাহলে সেগুলোকে সাপোর্ট বা রেজিস্ট্যান্স জোন হিসেবে বিবেচনা করুন।
  7. স্টপ লস: মূল্য কাঙ্ক্ষিত দিকের দিকে ১৫ পিপস মুভমেন্ট প্রদর্শন করলে, ব্রেকইভেনে স্টপ লস সেট করুন। এতে করে ভুল সিগন্যালের কারণে লোকসানের ঝুঁকি কমে আসে।

চার্টে কী কী রয়েছে:

  • সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্স লেভেল: এই লেভেলগুলো পজিশন ওপেন বা ক্লোজ করার ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে কাজ করে এবং টেক প্রফিট সেট করার ক্ষেত্রেও উপযোগী।
  • লাল লাইনসমূহ: চ্যানেল বা ট্রেন্ডলাইন, যা বর্তমান প্রবণতা এবং ট্রেডের সম্ভাব্য দিকনির্দেশনা প্রদান করে।
  • MACD ইনডিকেটর (14,22,3): হিস্টোগ্রাম এবং সিগন্যাল লাইন বিশ্লেষণের জন্য একটি অতিরিক্ত ট্রেডিং সিগন্যালের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।

ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

Recommended Stories

এখন কথা বলতে পারবেন না?
আপনার প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করুন চ্যাট.