empty
 
 
20.02.2026 07:59 AM
২০ ফেব্রুয়ারি কীভাবে GBP/USD পেয়ারের ট্রেডিং করবেন? নতুন ট্রেডারদের জন্য ট্রেডিংয়ের সহজ পরামর্শ ও বিশ্লেষণ

বৃহস্পতিবারের ট্রেডিংয়ের পর্যালোচনা:

GBP/USD পেয়ারের 1-ঘন্টার চার্ট

This image is no longer relevant

বৃহস্পতিবার GBP/USD কারেন্সি পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী মুভমেন্ট অব্যাহত ছিল, যা ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে চলমান নিম্নমুখী প্রবণতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ, তবে এর পেছনে কোনো দৃঢ় কারণ দেখা যায়নি। মনে রাখবেন যে মঙ্গলবার ও বুধবার যুক্তরাজ্যে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল, যেগুলোর ফলাফল ব্রিটিশ মুদ্রার উপর চাপ সৃষ্টি করেছিল। তবে বৃহস্পতিবার যুক্তরাজ্য বা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কোনো প্রতিবেদন/সংবাদ প্রকাশিত হয়নি, সেইসাথে কোনো ইভেন্টও ছিল না। সুতরাং, আমাদের মতে GBP/USD পেয়ারের বর্তমান দরপতন মৌলিক বা সামষ্টিক অর্থনৈতিক কারণে ঘটছে না। এটি মনে রাখা জরুরী যে মার্কেট মেকাররা মৌলিক বা সামষ্টিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণ ছাড়াই বিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ ট্রেডিং কার্যকর করতে পারে। যদি কোনো বড় ব্যাংক তাৎক্ষণিকভাবে বিলিয়ন ডলারের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে এবং মার্কেটে ক্রয়ের মাধ্যমে এন্ট্রি করে, তাহলে কোনো মৌলিক কারণ না থাকলেও ডলারের দর বৃদ্ধি পাবে। আমাদের দৃষ্টিকোণ থেকে, বর্তমানে মার্কিন ডলারের দর বৃদ্ধির প্রবণতাকে কেবল আরেকটি কারেকশন হিসেবে বিবেচনা করা যায় এবং মার্কিন ডলার সামষ্টিক অর্থনৈতিক পটভূমি থেকে দুর্বলভাবে সমর্থন পাচ্ছে।

GBP/USD পেয়ারের 5M চার্ট

This image is no longer relevant

বৃহস্পতিবার ৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে বেশ কয়েকটি ট্রেডিং সিগন্যাল গঠিত হয়। ইউরোপীয় ট্রেডিং সেশনের সময় এই পেয়ারের মূল্য 1.3484-1.3489 এরিয়ার কাছ থেকে বাউন্স করেছে কিন্তু নিকটতম লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছায়নি। এরপর একই এরিয়ায় একটি সেল সিগন্যাল গঠিত হয়, এবং তারপরে এই পেয়ারের মূল্য 1.3437-1.3446-এর লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছায়। ওই এরিয়ার তিনবার বাউন্সের ফলাফল নতুন ট্রেডাররা লং পজিশন ওপেন করার সুযোগ পেয়েছিল, তবে এই পেয়ারের মূল্য লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছায়নি। ফলে, একটি ছাড়া সবগুলো ট্রেড স্টপ লসের মাধ্যমে ব্রেকইভেনে ক্লোজ হয়েছে, আর একটি ট্রেড মুনাফার সাথে ক্লোজ হয়েছে।

শুক্রবার কীভাবে ট্রেডিং করতে হবে:

ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে GBP/USD পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী প্রবণতার সমাপ্তি ঘটেছে এবং... একটি নতুন ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা গঠিত হয়েছে। মধ্যমেয়াদে ডলারের দর বৃদ্ধির জন্য বৈশ্বিক পর্যায়ে কোনো ভিত্তি দেখা যাচ্ছে না, ফলে আমরা আশা করছি যে ২০২৫ থেকে চলমান বৈশ্বিক উর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকবে, যা এই পেয়ারের মূল্যকে অন্তত 1.4000 পর্যন্ত নিয়ে যেতে পারে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ব্রিটিশ মুদ্রার সার্বিক পরিস্থিতি বিশেষভাবে অনুকূল ছিল না, এবং এই কারণেই অপ্রত্যাশিতভাবে পাউন্ডের দরপতন হচ্ছে।

শুক্রবার, যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.3437-1.3446 এরিয়া থেকে রিবাউন্ড করে তাহলে নতুন ট্রেডাররা লং পজিশন ওপেন করার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.3484-1.3489-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যায়। এই পেয়ারের মূল্য 1.3437-1.3446 এরিয়ার নিচে স্থিতিশীলভাবে অবস্থান গ্রহণ করলে নতুন করে শর্ট পজিশন ওপেন করা যেতে পারে, যেখানে মূল্যের 1.3403-1.3407-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।

৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা যেতে পারে: 1.3319-1.3331, 1.3365, 1.3403-1.3407, 1.3437-1.3446, 1.3484-1.3489, 1.3529-1.3543, 1.3643-1.3652, 1.3695, 1.3741-1.3751, 1.3814-1.3832, 1.3891-1.3912, 1.3975। শুক্রবার যুক্তরাজ্যে খুচরা বিক্রয় প্রতিবেদন এবং পরিষেবা ও উৎপাদন খাতের বাণিজ্যিক কার্যক্রম সূচক প্রকাশিত হবে। যুক্তরাষ্ট্রে খুব বেশি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে না, তবে দেশটির PCE সূচকটি উল্লেখযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করা যায়। আমাদের ধারণা আজ ব্রিটিশ প্রতিবেদনগুলোর ফলাফল মার্কেটে সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলবে।

ট্রেডিং সিস্টেমের মূল নিয়মাবলী:

  1. সিগনালের শক্তি: যত দ্রুত একটি সিগন্যাল (রিবাউন্ড বা ব্রেকআউট) গঠিত হয়, সিগন্যালটিকে ততই শক্তিশালী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
  2. ভুল সিগন্যাল: যদি কোনো লেভেলের কাছে দুই বা ততোধিক ভুল ট্রেডিং সিগনাল গঠিত হয়, তাহলে ঐ লেভেল থেকে প্রাপ্ত পরবর্তী সিগন্যালগুলোকে উপেক্ষা করা উচিত।
  3. ফ্ল্যাট মার্কেট: যখন মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্ট দেখা যায়, তখন পেয়ারগুলোতে একাধিক ভুল সিগন্যাল গঠিত হতে পারে অথবা কোনো সিগন্যাল না-ও গঠিত হতে পারে। মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্টের ইঙ্গিত পাওয়ামাত্র ট্রেডিং বন্ধ করে দেওয়াই ভালো।
  4. ট্রেডিংয়ের সময়সূচী: ইউরোপীয় সেশন শুরু থেকে মার্কিন সেশনের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ট্রেড ওপেন করুন এবং এরপর সকল ট্রেড ম্যানুয়ালি ক্লোজ করে ফেলুন।
  5. MACD সিগন্যাল: ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে কেবল সেই MACD সিগন্যালগুলোর ওপর ভিত্তি করে ট্রেড করুন, যেগুলো উচ্চ মাত্রার অস্থিরতা এবং ট্রেন্ডলাইন বা ট্রেন্ড চ্যানেলের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রবণতা হিসেবে বিবেচিত।
  6. নিকটতম লেভেল: যদি দুটি লেভেল খুব কাছাকাছি (৫–২০ পিপসের মধ্যে) অবস্থিত হয়, তাহলে সেগুলোকে সাপোর্ট বা রেজিস্ট্যান্স জোন হিসেবে বিবেচনা করুন।
  7. স্টপ লস: মূল্য কাঙ্ক্ষিত দিকের দিকে ১৫ পিপস মুভমেন্ট প্রদর্শন করলে, ব্রেকইভেনে স্টপ লস সেট করুন। এতে করে ভুল সিগন্যালের কারণে লোকসানের ঝুঁকি কমে আসে।

চার্টে কী কী রয়েছে:

  • সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্স লেভেল: এই লেভেলগুলো পজিশন ওপেন বা ক্লোজ করার ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে কাজ করে এবং টেক প্রফিট সেট করার ক্ষেত্রেও উপযোগী।
  • লাল লাইনসমূহ: চ্যানেল বা ট্রেন্ডলাইন, যা বর্তমান প্রবণতা এবং ট্রেডের সম্ভাব্য দিকনির্দেশনা প্রদান করে।
  • MACD ইনডিকেটর (14,22,3): হিস্টোগ্রাম এবং সিগন্যাল লাইন বিশ্লেষণের জন্য একটি অতিরিক্ত ট্রেডিং সিগন্যালের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।

ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

Recommended Stories

এখন কথা বলতে পারবেন না?
আপনার প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করুন চ্যাট.