আরও দেখুন
মঙ্গলবার GBP/USD পেয়ার উল্লেখযোগ্য দরপতনের শিকার হয়েছে, যা মূলত হওয়ার কথা ছিল না। গতকাল ব্রিটিশ পাউন্ডের জন্য একমাত্র নেতিবাচক কারণ হিসেবে যুক্তরাজ্যের বেকারত্ব সংক্রান্ত প্রতিবেদনকে বিবেচিত করা যায়, যা অপ্রত্যাশিতভাবে বেড়ে 5.2%-এ পৌঁছেছে। এই নেতিবাচক ফলাফলের প্রভাবে দিনের মধ্যে 130 পিপস দরপতন ঘটেছে, এবং সন্ধ্যায় পাউন্ডের মূল্য কেবল সামান্যই বৃদ্ধি পেয়েছে। যুক্তরাজ্যে প্রকাশিত বাকি প্রতিবেদনগুলোর ফলাফল ট্রেডারদের জন্য তেমন গুরুত্বপূর্ণ ছিল না, এবং পুরো সপ্তাহজুড়ে কোনো নির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই ব্রিটিশ পাউন্ড দরপতনের শিকার হয়েছে। আজ পাউন্ড আবারও পরীক্ষার মুখোমুখি হবে — কয়েক ঘণ্টার মধ্যে যুক্তরাজ্যের মুদ্রাস্ফীতি প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে। যদি এই সূচক জানুয়ারিতে উল্লেখযোগ্যভাবে মন্থর হয়ে থাকে, তাহলে ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের পরবর্তী বৈঠকে সুদের হার হ্রাসের সম্ভাবনা কার্যত 100%-এ পৌঁছে যাবে। একই সময়ে, সুদের হার হ্রাস সম্ভাবনার কারণে ইতোমধ্যেই এক সপ্তাহ ধরে পাউন্ডের দরপতন ঘটছে। অতএব, দরপতনের বদলে পাউন্ডের মূল্য বৃদ্ধি পেতে দেখলেও আমরা অবাক হবো না।
মঙ্গলবার ৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে দুটি ট্রেডিং সিগন্যাল গঠিত হয়েছে, তবে সোমবারই 1.3643-1.3652 এরিয়ায় একটি সেল সিগন্যাল গঠিত করেছিল, যেটি আমরা পরদিন পর্যন্ত হোল্ড করে রাখার পরামর্শ দিচ্ছি। এই সিগন্যালটি নতুন ট্রেডারদের জন্য বেশ ভালোই মুনাফা করার সুযোগ করে দিয়েছিল। দিনের মধ্যে এই পেয়ারের মূল্য প্রথমে 1.3529-1.3543 রেঞ্জ একদিক থেকে ব্রেক করে, পরে আবার অন্যদিক থেকে ব্রেক করে। সর্বশেষ বাই সিগন্যালও কাজে লাগিয়ে সেটি পরবর্তী দিন পর্যন্ত হোল্ড করা যেত।
ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে GBP/USD পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী প্রবণতার সমাপ্তি ঘটেছে এবং... একটি নতুন ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা গঠিত হয়েছে। মধ্যমেয়াদে ডলারের দর বৃদ্ধির জন্য বৈশ্বিক পর্যায়ে কোনো ভিত্তি দেখা যাচ্ছে না, ফলে আমরা আশা করছি যে ২০২৫ থেকে চলমান বৈশ্বিক উর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকবে, যা এই পেয়ারের মূল্যকে অন্তত 1.4000 পর্যন্ত নিয়ে যেতে পারে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ব্রিটিশ মুদ্রার সার্বিক পরিস্থিতি বিশেষভাবে অনুকূল ছিল না, এবং কয়েক সপ্তাহ জুড়ে সক্রিয় মুভমেন্টের পর মার্কেট আবারও নিষ্ক্রিয়তার দিকে ফিরে যাচ্ছে।
বুধবার নতুন ট্রেডাররা লং পজিশন হোল্ড করে রাখতে পারেন, কারণ এই পেয়ারের মূল্য 1.3529-1.3543 এরিয়া অতিক্রম করেছে, এক্ষেত্রে মূল্যের 1.3643-1.3652-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। এই পেয়ারের মূল্য 1.3529-1.3543 এরিয়ার নিচে কনসোলিডেশন করলে শর্ট পজিশন ওপেন করার সুযোগ পাওয়া যাবে, যেখানে মূল্যের 1.3484-1.3489-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।
৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা যেতে পারে: 1.3319-1.3331, 1.3365, 1.3403-1.3407, 1.3437-1.3446, 1.3484-1.3489, 1.3529-1.3543, 1.3643-1.3652, 1.3741-1.3751, 1.3814-1.3832, 1.3891-1.3912, এবং 1.3975।
বুধবার যুক্তরাজ্যে জানুয়ারির মুদ্রাস্ফীতি প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে — এটিই আজকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন। যুক্তরাষ্ট্রে কেবলমাত্র স্বল্প গুরুত্বসম্পন্ন কয়েকটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে, তবুও এগুলোর ফলাফল মার্কেটে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।