empty
 
 
12.02.2026 09:23 AM
ক্রিপ্টো মার্কেটে নিম্নমুখী প্রবণতা সমাপ্তির কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না

বিটকয়েন গত বছরের অক্টোবর থেকে 50%-এরও বেশি দরপতনের শিকার হয়েছে এবং এই দরপতন থামার বা সামান্য পুনরুদ্ধারেরও কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। কোনো "বুলিশ" প্যাটার্ন নেই, এবং ডাউনওয়ার্ড স্ট্রাকচারের ব্রেকের কোনো কারণ দেখা যাচ্ছে না কিংবা তা নিকট ভবিষ্যতে প্রত্যাশিত নয়। যেমনটি আমরা আগেই উল্লেখ করেছি, ক্রিপ্টো কমিউনিটি বর্তমানে দুই ভাগে বিভক্ত: যারা সক্রিয়ভাবে ট্রেড ও বিশ্লেষণ করে, এবং যারা ক্রমাগত ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা পূর্বাভাস দেয়। সহজভাবে বলতে গেলে, কোনো কোনো ট্রেডার ও বিনিয়োগকারী বিটকয়েনের মূল্যের অবিরাম উত্থানের প্রত্যাশা করছে, আর কেউ কেউ বাস্তবমুখী দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করে।

একজন ন্যায্য ও সৎ বাজার বিশ্লেষক হিসেবে বিবেচিত মাইকেল বারি এই সপ্তাহে বলেছেন যে গত কয়েক সপ্তাহে বিটকয়েনের মৌলিক পটভূমি বদলায়নি। অতএব, এর দরপতনের সমাপ্তি প্রত্যাশা করার কোনো কারণ নেই। তিনি সতর্ক করেছেন যে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বহু কোম্পানি মাইক্রোস্ট্র্যাটেজির পথ অনুসরণ করে তাদের সমস্ত অর্থ—এমনকি ঋণ গ্রহণ করে—"ডিজিটাল স্বর্ণ" কিনেছে। তবে মাইক্রোস্ট্র্যাটেজি বেশ বড় একটি কোম্পানি, যারা দীর্ঘ সময় ধরে বড় ধরনের দরপতন সহ্য করতে সক্ষম। তবে কয়েকটি ছোট কোম্পানির ক্ষেত্রে এটি বলা যাবে না; তাদের জন্য বিটকয়েনের 50% দরপতন বিধ্বংসী হতে পারে।

বারি সতর্ক করেছেন যে বিটকয়েন একটি "ডেথ স্পাইরালে" প্রবেশ করতে পারে, যা ধারাবাহিক দরপতন এবং পেন্ডিং লং অর্ডার ক্লোজিং-এর মাধ্যমে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে থাকবে। তিনি উল্লেখ করেছেন যে বিটকয়েন আবারও মূল্য সংরক্ষণের মাধ্যম বা মুদ্রাস্ফীতির বিরুদ্ধে সুরক্ষিত ইন্সট্রুমেন্ট হিসেবে প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। মার্কিন ডলারের অব্যাহত দরপতন, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং মার্কিন অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সংকটের আশঙ্কার মধ্যে বিনিয়োগকারীরা বিটকয়েনের পরিবর্তে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণ ও রুপা বেছে নিচ্ছে। বিশেষজ্ঞ আরও সতর্ক করে বলেছেন যে যদি বিটকয়েনের মূল্য আরও 10% নেমে যায়, তবে লিকুইডিটি সমস্যা এমনকি মাইক্রোস্ট্র্যাটেজিকেও প্রভাবিত করতে শুরু করতে পারে। উপরন্তু, মাইনারদের মধ্যে দেউলিয়া হওয়ার প্রবণতাও দেখা যেতে পারে, কারণ বর্তমানে একটি বিটকয়েন মাইন করার আনুমানিক ব্যয় $70,000 থেকে $90,000 পর্যন্ত ধরা হচ্ছে।

এই ক্রিপ্টো বিশেষজ্ঞ আরও বলেছেন যে ট্রেজারি কোম্পানি ও নতুন বিটকয়েন ফান্ড প্রতিষ্ঠার দ্বারা সৃষ্ট চাহিদা মূলত ক্রিপ্টো অ্যাসেটের মূল্য বৃদ্ধি করার জন্য পর্যাপ্ত নয়। এসব কোম্পানিকে তাদের অ্যাসেটকে বাজারমূল্য অনুয়ায়ী মূল্যায়ন করতে হয়, এবং যদি দরপতন হয়, তাহলে তাদের অবশ্যই তাদের মূলধন পুনঃগণনা করতে হবে। যদি মূলধন কমে যায়, তাহলে রিস্ক ম্যানেজমেন্ট অনুযায়ী পতনশীল এবং ঝুঁকিপূর্ণ অ্যাসেট বিক্রি করে দিতে হবে, যা ক্রিপ্টো মার্কেটে নতুন করে বিক্রয়ের প্রবণতাকে উদ্দীপিত করতে পারে।

This image is no longer relevant

BTC/USD‑এর ট্রেডিংয়ের পরামর্শ:

বিটকয়েনের মূল্যের পূর্ণাংগ নিম্নমুখী প্রবণতার গঠন অব্যাহত রয়েছে। আমরা এখনও $57,500-এর লক্ষ্যমাত্রার দিকে দরপতনের প্রত্যাশা করছি (তিন বছরেয় ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার মধে 61.8% ফিবোনাচি লেভেলে), এবং বর্তমানে প্রবণতা পরিবর্তনের কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। এমনকি $57,500 লেভেলেটিও এখন আর দরপতনের চূড়ান্ত লেভেল বলে মনে হচ্ছে না। দৈনিক টাইমফ্রেমে সেলিং পয়েন্ট অব ইন্টারেস্টের মধ্যে সর্বশেষ বিয়ারিশ FVG লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যেখানে বিটকয়েনের মূল্যের পৌঁছাতে এখনও অনেক পথ বাকি আছে। 4-ঘন্টার টাইমফ্রেমেও একটি বিয়ারিশ FVG রয়েছে। যেকোনো একটি FVG-তে প্রতিক্রিয়া দেখা গেলে, সাথে লোয়ার টাইমফ্রেমেও নিম্নমুখী প্রবণতা নিশ্চয়তা দেখা গেলে, নতুন শর্ট পজিশন ওপেন করার সুযোগ তৈরি হবে।

This image is no longer relevant

ETH/USD‑এর ট্রেডিংয়ের পরামর্শ:

দৈনিক টাইমফ্রেমে ইথেরিয়ামের মূল্যের নিম্নমুখী প্রবণতার গঠন অব্যাহত রয়েছে। বিক্রির মূল প্যাটার্ন হিসেবে সাপ্তাহিক টাইমফ্রেমের বিয়ারিশ অর্ডার ব্লক বিবেচিত হচ্ছিল এবং আজও তা সক্রিয় রয়ে গেছে। যেমনটি আমরা সতর্ক করে বলেছি, এই সিগন্যাল দ্বারা উদ্দীপিত নিম্নমুখী মুভমেন্ট শক্তিশালী ও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। এটি গঠনের পর ইথেরিয়াম ইতোমধ্যেই 55% বা $2,500 দরপতনের শিকার হয়েছে। নিকট ভবিষ্যতে একটি ঊর্ধ্বমুখী করেকশনের প্রত্যাশা করা যেতে পারে, তবে 4-ঘন্টার টাইমফ্রেমে একমাত্র "বুলিশ" প্যাটার্ন ইতোমধ্যে বাতিল হয়ে গেছে। তার পরিবর্তে দুইটি বিয়ারিশ FVG গঠিত হয়েছে, যেগুলো থেকে নিম্নমুখী প্রবণতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ সেল সিগন্যাল পাওয়ার উচ্চ সম্ভাবনা রয়েছে।

চিত্রের ব্যাখ্যা:

  • CHOCH – ট্রেন্ড স্ট্রাকচারের ব্রেক বা চেঞ্জ অব ক্যারেকটার।
  • লিকুইডিটি – স্টপ লসের লিকুইডিটি, যা ট্রেডাররা তাদের পজিশন বিল্ড করার জন্য ব্যবহার করে।
  • FVG – প্রাইস ইনএফিসিয়েন্সি এরিয়া; এই এরিয়াগুলোতে মূল্য দ্রুত এগিয়ে যায়, যা মার্কেটে ক্রেতা/বিক্রেতা যেকোনো একপক্ষের সম্পূর্ণ অনুপস্থিতি নির্দেশ করে। পরে মূল্য ওই এরিয়ায় দিকে ফিরে এসে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হওয়ার প্রবণতা দেখা যায়।
  • IFVG – প্রাইস ইনএফিসিয়েন্সির ইনভার্টেড এরিয়া; এমন একটি এরিয়া যেখানে ফিরে এসে সেখানে কোনো প্রতিক্রিয়া না করে ইম্পালসিভভাবে ব্রেক করে যায় এবং পরে বিপরীত দিক থেকে টেস্ট করে।
  • OB – অর্ডার ব্লক; সেই ক্যান্ডেল যেখানে মার্কেট মেকার তাদের পজিশন ওপেন করে লিকুইডিটি নিয়ে অপোজিট পজিশন বিল্ড করে।
ইন্সটাফরেক্স ক্রিপ্টোকারেন্সির রেট পরিবর্তনগুলো থেকে উপার্জন করুন
মেটাট্রেডার 4 ডাউনলোড করুন এবং আপনার প্রথম ট্রেড ওপেন করুন

Recommended Stories

এখন কথা বলতে পারবেন না?
আপনার প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করুন চ্যাট.