empty
 
 
24.09.2026 10:32 AM
হরমুজ প্রণালী দিয়ে ১৭ মিলিয়ন ব্যারেল তেল পরিবহন স্পষ্টতই যথেষ্ট নয়

বুধবার প্রায় 4% বৃদ্ধির পর জ্বালানি তেলের দাম কিছুটা কমলেও সামগ্রিকভাবে তা একটি নির্দিষ্ট রেঞ্জের মধ্যেই ওঠানামা করছে; এদিকে যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় উল্লেখ করেছে যে হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিপুল পরিমাণ তেল পরিবাহিত হচ্ছে। বিশ্ববাজারে তেলের মানদণ্ড হিসেবে পরিচিত ব্রেন্ট ক্রুড গ্রেডের তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি $102-এর দিকে নেমে এসেছে এবং ডব্লিউটিআই গ্রেডের অপরিশোধিত তেলের দাম $92-এর কাছাকাছি অবস্থান করছে।

This image is no longer relevant

যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট গতকাল বলেছেন যে হরমুজ প্রণালী দিয়ে "মাঝে মাঝে" দৈনিক ১৭ মিলিয়ন ব্যারেল তেল পরিবহন করা হয়; অথচ অন্যান্য বিশ্লেষকবৃন্দ এই পরিমাণ অনেক কম বলে উল্লেখ করেছেনন—যেমন, ক্লার্কসনস রিসার্চ এই মাসের শুরুর দিকে দৈনিক সরবরাহের পরিমাণ প্রায় ৮ মিলিয়ন ব্যারেল বলে অনুমান করেছিল। দ্বিগুণেরও বেশি এই ব্যবধানটি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। এর অর্থ হলো, হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার ব্যাপারে মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি স্বাধীন গবেষণা সংস্থাগুলোর প্রকৃত তথ্যের চেয়ে অনেক বেশি।

তবে, জ্বালানি তেলের বর্তমান দরপতনের কারণ হিসেবে ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকিজনিত বাড়তি মূল্য আংশিকভাবে কমে যাওয়াকে চিহ্নিত করা যেতে পারে; পারস্য উপসাগর থেকে তেল সরবরাহ পুনরায় শুরু হওয়ায় এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক সমঝোতার ক্রমবর্ধমান আশাই এর পেছনে কাজ করছে। একই সাথে, প্রকৃত পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি, তাই নতুন কোনো খবরের প্রেক্ষিতে দাম আরও কমে যাওয়ার বা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। এখান থেকে একটি সরাসরি সম্পর্ক বোঝা যায়: হরমুজ দিয়ে তেল সরবরাহের দাবিকৃত পরিমাণের বাস্তবতা নিয়ে সন্দেহ দেখা দিলেই জ্বালানি তেলের দর দ্রুত আবার বেড়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়; ফলে বর্তমান দরপতনকে কাঠামোগত পরিবর্তনের চেয়ে বরং কৌশলগত বা সাময়িক ওঠানামা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

ডিজেল রপ্তানির ওপর প্রস্তাবিত নিষেধাজ্ঞার বিষয়টিও কমোডিটি মার্কেটে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই সপ্তাহের শুরুর দিকে বলেছিলেন যে তিনি তাঁর উপদেষ্টাদের এই নিষেধাজ্ঞার পক্ষে সমর্থন জানাতে বলেছেন। হোয়াইট হাউস ডিজেল রপ্তানিতে বিধিনিষেধ আরোপের কথা বিবেচনা করছে—এমন জল্পনা-কল্পনার মধ্যে বুধবার এটির দাম কিছুটা কমার পর যুক্তরাষ্ট্রের ডিজেল ফিউচার্সের দর আবার সামান্য বেড়েছে। জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন যে, মার্কিন প্রশাসন সরাসরি নিষেধাজ্ঞার বিকল্প হিসেবে শোধনাগারগুলোর সাথে স্বেচ্ছায় সরবরাহ কমানোর বিষয়ে কাজ করছে। অন্যদিকে, এপিআই-এর প্রেসিডেন্ট মাইক সোমার্স সতর্ক করেছেন যে, ডিজেল রপ্তানি সীমিত করা হলে শোধনাগারগুলো উৎপাদন কমাতে বাধ্য হতে পারে; এতে সাময়িকভাবে ডিজেলের দাম কমলেও গ্যাসোলিন ও জেট ফুয়েলের খরচ বেড়ে যাবে। এর অর্থ হলো, ডিজেল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা মূলত যুক্তরাষ্ট্রের ডিজেল ব্যবহারকারীদের জন্য লাভজনক হলেও গাড়িচালক ও বিমান সংস্থাগুলোর জন্য ক্ষতিকর হবে, কারণ এক্ষেত্রে গ্যাসোলিন ও জেট ফুয়েলের দাম বেড়ে যাবে।

এরই মধ্যে এই সপ্তাহে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাথে ট্রাম্পের নির্ধারিত বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। শি-র সাথে ইরান প্রসঙ্গটি তোলা হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প 'হ্যাঁ' সূচক উত্তর দিয়েছেন। এটি যৌক্তিক, কারণ যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে সরবরাহ সীমিত হওয়া সত্ত্বেও চীন এখনো ইরানের অন্যতম বৃহত্তম তেল ক্রেতা হিসেবে রয়ে গেছে।

আমার মতে, হরমুজ দিয়ে তেল সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার বিষয়ে ওয়াশিংটনের আনুষ্ঠানিক বিবৃতি এবং স্বাধীন সংস্থাগুলোর অনেক কম পরিমাণের অনুমানের মধ্যে যে ব্যবধান রয়েছে—তার সাথে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজের ওপর অব্যাহত হামলার ঘটনাগুলো মিলিয়ে দেখলে বোঝা যায় যে, জ্বালানি তেলের বর্তমান দরপতনটি বেশ ভঙ্গুর; নতুন কোনো ঘটনা ঘটলেই মূল্য দ্রুত বিপরীতমুখী হতে পারে। আমি এই সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছি না যে, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ছাড়া অবাধ নৌ-চলাচলের সম্ভাবনাই যেখানে প্রশ্নবিদ্ধ, সেখানে জাতিসংঘের মঞ্চে পেজেশকিয়ানের দেওয়া বক্তব্য—ট্রানজিট বা পণ্য পরিবহনের পরিমাণ সাময়িকভাবে পুনরুদ্ধারের মতো বিচ্ছিন্ন মন্তব্যের তুলনায়—দীর্ঘমেয়াদে তেলের মূল্যের ওপর অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। তাই, মৌলিক প্রেক্ষাপটের সামান্য অবনতি ঘটলেই ব্রেন্ট ক্রুড গ্রেডের জ্বালানি তেলের দাম অনায়াসেই $105-এর উপরে উঠে যেতে পারে।

This image is no longer relevant

জ্বালানি তেলের মূল্যের বর্তমান টেকনিক্যাল চিত্র অনুযায়ী, ক্রেতাদের জ্বালানি তেলের মূল্যকে নিকটস্থ রেজিস্ট্যান্স $92-এ নিয়ে যেতে হবে। এতে করে জ্বালানি তেলের মূল্যের $96-এর লক্ষ্যমাত্রার দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে, যা ব্রেক করে ঊর্ধ্বমুখী হওয়া বিশেষভাবে চ্যালেঞ্জিং হবে। পরবর্তী লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে $100 এরিয়া নির্ধারণ করা যেতে পারে। যদি তেলের দরপতন হয়, তাহলে মূল্য $89-এ থাকা অবস্থায় বিক্রেতারা মার্কেটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করবে। তারা সফল হলে এই রেঞ্জ ব্রেক করে মূল্য নিম্নমুখী হলে সেটি বুলিশ পজিশনের উপর উল্লেখযোগ্য আঘাত হিসেবে বিবেচিত হবে এবং তেলের মূল্য $87 পর্যন্ত নেমে যেতে পারে, যেখানে পরবর্তীতে $84 পর্যন্ত দরপতনের সম্ভাবনাও রয়েছে।

Recommended Stories

এখন কথা বলতে পারবেন না?
আপনার প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করুন চ্যাট.