আরও দেখুন
মঙ্গলবার বেশ কয়েকটি সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদন প্রকাশের কথা থাকলেও সেগুলোর কোনোটিই খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। উদাহরণস্বরূপ, জার্মানিতে দ্বিতীয় প্রান্তিকের জিডিপির তৃতীয় প্রাক্কলন এবং Ifo বিজনেস ক্লাইমেট ইনডেক্স প্রকাশিত হবে; আমরা এই দুটি প্রতিবেদনকেই স্বল্প গুরুত্বসম্পন্ন হিসেবে বিবেচনা করছি। ইউরোজোন এবং যুক্তরাজ্যের কোনো উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে না। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে নিউ হোম সেলস এবং সাপ্তাহিক এডিপি প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে—যা একান্তই স্বল্প গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
মঙ্গলবারের ফান্ডামেন্টাল ইভেন্টের মধ্যে ফেডারেল রিজার্ভের প্রতিনিধি টমাস বার্কিনের বক্তব্য বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ইদানীং ফেডারেল রিজার্ভের পক্ষ থেকে কোনো 'নতুন' তথ্য পাওয়া যায়নি, তাই বার্কিনের ভাষণটি ট্রেডারদের মনোযোগ আকর্ষণ করতে পারে। তবে আমরা সেপ্টেম্বরে ফেডারেল রিজার্ভ কর্তৃক মূল সুদের হার বৃদ্ধির কোনো সম্ভাবনা দেখছি না; কারণ সাম্প্রতিক সব সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী মুদ্রানীতি কঠোর করার খুব একটা সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। এদিকে, ব্যাংক অফ ইংল্যান্ড যেমন আবারও ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতির চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে, তেমনি ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকও এই শরতে দ্বিতীয়বারের মতো মুদ্রানীতি কঠোর করার পদক্ষেপ নিতে পারে।
ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এখনও খুবই হতাশাজনক রয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বর্তমানে কোনো আলোচনা চলছে না, হরমুজ প্রণালী বন্ধ বা আংশিকভাবে বন্ধ রয়েছে এবং ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহী গোষ্ঠী সৌদি আরবের উপর নৌ-অবরোধ বজায় রেখেছে। তেহরান হরমুজ প্রণালী পুনরায় খোলার জন্য ওয়াশিংটনের কাছে একগুচ্ছ দাবি পেশ করেছে, যা ডোনাল্ড ট্রাম্প কোনো অবস্থাতেই মেনে নেবেন না। ইরান ওয়াশিংটনকে এও সতর্ক করেছে যে, যদি হরমুজ প্রণালীর অবরোধ তুলে না নেওয়া হয়, তবে তারা নিজেদের বাহিনী ব্যবহার করে প্রণালীটি 'মুক্ত' করার অভিযান শুরু করবে। এরই মধ্যে, ইরানকে ধসিয়ে দেয়ার লক্ষ্যে ট্রাম্প এক অভূতপূর্ব অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং সেইসাথে ইরানের সাথে যেকোনো ধরনের সম্পর্ক রাখা দেশগুলোর ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দিয়েছেন। পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে ইরান হুমকি দিয়েছে যে অন্যান্য দেশ যদি ওয়াশিংটনের সাথে তাদের উপর চাপ সৃষ্টিতে শামিল হয়, তবে আরও অন্যান্য প্রণালী ও পথ বন্ধ করে দেওয়া হবে।
চলতি সপ্তাহের দ্বিতীয় দিনের ট্রেডিংয়ে, উভয় কারেন্সি পেয়ারের আবারও বেশ মন্থর ট্রেডিং দেখা যেতে পারে, কারণ আজ তেমন কোনো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে না। আজ ইউরো 1.1655-1.1665 রেঞ্জে ট্রেড করা যেতে পারে, অন্যদিকে ব্রিটিশ পাউন্ড 1.3631-1.3641 এরিয়ায় ট্রেড করা যেতে পারে। সার্বিকভাবে, আমরা মার্কিন ডলারের বিপরীতে ইউরো এবং পাউন্ড উভয়েরই আরও মূল্য বৃদ্ধির প্রত্যাশা করছি, এবং শুধুমাত্র ভূ-রাজনৈতিক সংকট বা টেকনিক্যালভাবে কারেকশনের প্রয়োজনীয়তাই এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।