আরও দেখুন
শুক্রবারের ট্রেডিংয়ে EUR/USD কারেন্সি পেয়ারের দরপতন অব্যাহত ছিল, কিন্তু এই পেয়ারের মূল্য দ্বিতীয়বারের মতো সাইডওয়েজ চ্যানেলের লোয়ার বাউন্ডারি 1.1363-1.1377 এরিয়ার মধ্য দিয়ে ব্রেক করে যেতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলস্বরূপ এই এরিয়া থেকে আরেকটি বাউন্স হয়েছে এবং আমরা আশা করতে পারি যে এই পেয়ারের মূল্য চলমান মাসজুড়ে বিদ্যমান ফ্ল্যাট রেঞ্জের আপার বাউন্ডারির দিকে উঠতে পারে, যে সম্ভাবনা ঘণ্টাভিত্তিক চার্টেও স্পষ্ট। শুক্রবার ইউরোর মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ার সব কারণই ছিল, ঠিক যেমনটি আগের দিন পেয়েছিল। উল্লেখ্য যে বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের (ইসিবি) বৈঠকের ফলাফলকে মূলত "নিউট্রাল-হকিশ" হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। সহজভাবে বলা যায়, ইসিবি হকিশ বা কঠোর দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রেখেছে এবং মুদ্রানীতি আরও কঠোর করার প্রস্তুতির ইঙ্গিত দিয়েছে। তবে ট্রেডাররা দ্বিতীয়বারের মতো এই বিষয়টি কার্যত উপেক্ষা করেছে। শুক্রবারে ইউরোজোন ও জার্মানির সার্ভিস ও ম্যানুফ্যাকচারিং সেক্টরের বিজনেস অ্যাক্টিভিটি সংক্রান্ত সূচকগুলোতে তুলনামূলকভাবে ইতিবাচক ফলাফল পরিলক্ষিত হয়েছে, যা ইউরোর দর বৃদ্ধি ঘটাতে পারত। কিন্তু ইউরোর মূল্য কেবলমাত্র সোমবার ভোররাতের দিকে বৃদ্ধি পেয়েছিল, যখন জানা যায় যে আমেরিকা ইরানের বিরুদ্ধে হামলা বন্ধ করেছে এবং বিবাদমান পক্ষদ্বয় শিগগিরই আলোচনার টেবিলে ফিরে যেতে পারে।
শুক্রবার 5-মিনিটের টাইমফ্রেমে দুটি বাই ট্রেডিং সিগন্যাল গঠিত হয়েছে। এই পেয়ারের মূল্য 1.1363-1.1377 এরিয়া থেকে দুইবার বাউন্স করে এবং সোমবার থেকে ঊর্ধ্বমুখী হওয়া শুরু করে। আমরা আশা করছি এই সপ্তাহে এই পেয়ারের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকবে।
ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে এই পেয়ারের মূল্য উভয় ট্রেন্ডলাইনই ব্রেক করেছে এবং এখন আর সেগুলো প্রাসঙ্গিক নেই। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মার্কেটের সার্বিক পরিস্থিতি ও মুভমেন্ট বিবেচনা করে আমাদের ধারণা ইউরোর মূল্য বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে; এবং এটির মূল্য এখনকার চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালীভাবে বৃদ্ধি পাওয়া উচিত। তবে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে মূলত সাইডওয়েজ রেঞ্জভিত্তিক মুভমেন্ট দেখা যাচ্ছে। ট্রেডাররা এখনও ইউরোর জন্য ইতিবাচক প্রায় সকল কারণ উপেক্ষা করে চলেছে।
সোমবার, যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.1363-1.1377 এরিয়ার নিচে কনসোলিডেট করে, তাহলে নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন ওপেন করতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.1267-1.1275 -এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। গত শুক্রবার দুটি বাই সিগন্যাল গঠিত হওয়ায় লং পজিশনগুলো বজায় রাখা যেতে পারে, সেক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে 1.1461-1.1466 এরিয়া নির্ধারণ করা যেতে পারে। আজ আবারও এই পেয়ারের মূল্যের স্বল্প মাত্রার অস্থিরতা বজায় থাকতে পারে।
৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে, ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা উচিত: 1.1267-1.1275, 1.1363-1.1377, 1.1461-1.1466, 1.1527-1.1531, 1.1584-1.1594, 1.1655-1.1666, এবং 1.1745-1.1754। সোমবার জার্মানিতে বিজনেস ক্লাইমেট সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে, এবং যুক্তরাষ্ট্রে ডিউরেবল গুডস অর্ডার সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে। উভয় প্রতিবেদনই তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয় এবং সম্ভবত এই কারেন্সি পেয়ারের বর্তমান টেকনিক্যাল চিত্রে খুব একটা প্রভাব ফেলবে না।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।