আরও দেখুন
যখন MACD সূচকটি শূন্যের উপরের দিকে উঠতে শুরু করছিল তখন এই পেয়ারের মূল্য 1.1409-এর লেভেল টেস্ট করেছিল, যা ইউরোর বাই পজিশন ওপেন করার জন্য সঠিক এন্ট্রি পয়েন্ট নিশ্চিত করে। ফলস্বরূপ, এই পেয়ারের মূল্য 1.1440-এর লক্ষ্যমাত্রার দিকে বৃদ্ধি পেয়েছে।
গতকাল, মার্কিন মুদ্রাস্ফীতি প্রতিবেদনের ফলাফলের প্রতিক্রিয়ায় মার্কিন ডলারের দরপতন হয়েছে। জুন মাসের প্রতিবেদনে মূল মুদ্রাস্ফীতি পরিসংখ্যানটি বিশেষভাবে লক্ষণীয় ছিল, যা ফেডারেল রিজার্ভের দীর্ঘদিনের লক্ষ্যমাত্রার কাছাকাছি নেমে এসেছে। মূল ভোক্তা মূল্য সূচকে অস্থির হিসেবে বিবেচিত খাদ্য ও জ্বালানির দাম অন্তর্ভুক্ত থাকে এবং এটিকে টেকসই মূল্যস্ফীতির চাপের সবচেয়ে সঠিক সূচক হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যে কারণে ট্রেডাররা সূচকটির প্রতি গভীর মনোযোগ দেয়। মাসিক ভিত্তিতে, সূচকটিতে কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি, প্রত্যাশিত ০.২ শতাংশের তুলনায় এটি শূন্যে পৌঁছেছে, যেখানে বার্ষিক ভিত্তিতে এটি ২.৮ শতাংশের পূর্বাভাসের বিপরীতে কমে ২.৬ শতাংশে নেমে এসেছে। ফলে, মূল মুদ্রাস্ফীতি ২ শতাংশের লক্ষ্যমাত্রার কাছাকাছি চলে এসেছে, যা অনেক দিন ধরে দেখা যায়নি। ইউরো মার্কিন ডলারের এই দুর্বলতার সুযোগ নিয়েছে। মার্কিন মুদ্রাস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রার কাছাকাছি চলে আসায় ফেডের আর্থিক নীতিমালা নমনীয় হওয়ার প্রত্যাশা বেড়েছে, যা মার্কিন ডলারের আকর্ষণ কমিয়েছে এবং EUR/USD-এর মূল্যের উত্থানের সুযোগ তৈরি করেছে।
আজ, ইউরোজোনে শিল্প উৎপাদন সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে, যা এই সেশনের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন হিসেবে বিবেচনা। শিল্প উৎপাদন সূচকের মাধ্যমে জানা যায় যে কোনো অঞ্চলের কারখানাগুলো কী পরিমাণ পণ্য উৎপাদিত হচ্ছে এবং এটি অর্থনৈতিক কার্যকলাপের একটি মূল সূচক, কারণ এটি বৃদ্ধি পেলে ব্যবসায়িক আস্থার সংকেত দেয় এবং ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আর্থিক নীতিমালা সংক্রান্ত প্রত্যাশা নির্ধারণের মাধ্যমে ইউরোকে সহায়তা করে। ট্রেডারদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো পূর্বাভাসের তুলনায় প্রকৃত ফলাফলের ভিন্নতা, কারণ এটি মার্কেটে সৃষ্ট প্রতিক্রিয়ার তীব্রতা নির্ধারণ করে। যদি আসন্ন প্রতিবেদনের ফলাফল ইতিবাচক হয়, তাহলে মার্কিন ডলারের বিপরীতে ইউরোর নতুন করে দর বৃদ্ধির সুযোগ থাকবে এবং ইউরোপীয় সেশন জুড়ে EUR/USD পেয়ারের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা গঠিত হতে পারে।
দৈনিক কৌশল হিসেবে আমি প্রধানত পরিকল্পনা নং 1 ও নং 2 বাস্তবায়নের ওপর নির্ভর করব।
পরিকল্পনা #1: আজ যখন ইউরোর মূল্য 1.1477-এর (চার্টে গাঢ় সবুজ লাইন দ্বারা চিহ্নিত) লেভেলে বৃদ্ধির লক্ষ্যে 1.1449-এর (চার্টে সবুজ লাইন দ্বারা চিহ্নিত) লেভেলে পৌঁছাবে, তখন আপনি ইউরোর লং পজিশন ওপেন করতে পারেন। মূল্য 1.1477-এর লেভেলে গেলে, আমি লং পজিশন ক্লোজ করার পরিকল্পনা করছি এবং এন্ট্রি পয়েন্ট থেকে বিপরীত দিকে 30-35 পিপসের মুভমেন্টের উপর নির্ভর করে ইউরোর শর্ট পজিশন ওপেন করব। আজ আসন্ন প্রতিবেদনের ইতিবাচক ফলাফল প্রকাশিত হলে ইউরোর মূল্য বৃদ্ধি পেতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ: এই পেয়ারের লং পজিশন ওপেন করার আগে, নিশ্চিত করুন যে MACD সূচকটি শূন্যের উপরে রয়েছে এবং সেখান থেকে উপরের দিকে উঠতে শুরু করেছে।
পরিকল্পনা #2: আজ MACD সূচকটি ওভারসোল্ড জোনে থাকাকালীন সময়ে মূল্য পরপর দুইবার 1.1433-এর লেভেল টেস্টের ক্ষেত্রে আমি ইউরোর লং পজিশন ওপেন করার পরিকল্পনা করছি। এটি এই পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী হওয়ার সম্ভাবনাকে সীমিত করবে এবং মূল্যকে বিপরীতমুখী করে ঊর্ধ্বমুখী করবে। আমরা 1.1449 এবং 1.1477-এর বিপরীতমুখী লেভেলের দিকে এই পেয়ারের দর বৃদ্ধির প্রত্যাশা করতে পারি।
পরিকল্পনা #1: EUR/USD পেয়ারের মূল্য 1.1433-এর (চার্টে লাল লাইন) লেভেলে পৌঁছানোর পর আমি ইউরোর শর্ট পজিশন ওপেন করার করার পরিকল্পনা করছি। বিক্রেতাদের জন্য মূল লক্ষ্যমাত্রা হবে 1.1407-এর লেভেল, যেখানে মূল্য পৌঁছালে আমি সেল পজিশন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছি এবং এন্ট্রি পয়েন্ট থেকে বিপরীত দিকে 20-25 পিপসের মুভমেন্টের উপর নির্ভর করে ইউরোর বাই পজিশন ওপেন করব। আজ আসন্ন প্রতিবেদনের দুর্বল ফলাফল প্রকাশিত হলে এই পেয়ারের উপর চাপ ফিরে আসতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ: শর্ট পজিশন ওপেন করার আগে, নিশ্চিত করুন যে MACD সূচকটি শূন্যের নিচে রয়েছে এবং শূন্যের নিচে নামতে শুরু করেছে।
পরিকল্পনা #2: MACD সূচকটি ওভারবট জোনে থাকাকালীন সময়ে মূল্য পরপর দুইবার 1.1449-এর লেভেল টেস্টের ক্ষেত্রে আমি আজ ইউরোর শর্ট পজিশন ওপেন করতে যাচ্ছি। এটি এই পেয়ারের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার সম্ভাবনাকে সীমিত করবে এবং মূল্যকে বিপরীতমুখী করে নিম্নমুখী করবে। আমরা 1.1433 এবং 1.1407-এর বিপরীতমুখী লেভেলের দিকে এই পেয়ারের দরপতনের আশা করতে পারি।