আরও দেখুন
মঙ্গলবার GBP/USD পেয়ারের মূল্যেরও স্বল্প মাত্রার অস্থিরতা পরিলক্ষিত হয়েছে, তবে বিকেলের দিকে সামান্য দরপতন হতে দেখা গেছে, যা মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি প্রভাবে হতে পারে। মনে রাখবেন গতকাল যুক্তরাষ্ট্রের সশস্ত্র বাহিনী হরমুজ প্রণালীর উপকূলে ইরানের নৌকা ও ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনাগুলোতে হামলা চালায়। কয়েক ঘণ্টা পর ইরানের প্রতিনিধিরা জানায় যে এই হামলার পাল্টা জবাব দেয়া হবে এবং ওয়াশিংটনের সাথে আরও আলোচনার সম্ভাবনা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে। ফলে ডোনাল্ড ট্রাম্প পুরো সপ্তাহান্ত জুড়ে যে চুক্তির কথা আলোচনা করেছিলেন এবং যা "আসন্ন কয়েক দিনের মধ্যে" স্বাক্ষরিত হতে পারে বলে বলা হচ্ছিল, তা আবারও ব্যাপক অনিশ্চয়তার মধ্যে পর্যবসিত হয়েছে। গতকালের দরপতনের ফলে GBP/USD পেয়ারের মূল্য অ্যাসেন্ডিং ট্রেন্ড লাইনটির নিচে নেমে এসেছে, তাই সপ্তাহের শেষ পর্যন্ত ব্রিটিশ পাউন্ডের দরপতন হতে দেখা যেতে পারে। তবু মনে রাখাতে হবে যে বর্তমানে ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণে আছে। যদি আজ কোনো সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়, তবে টেকনিক্যাল চিত্র নির্বিশেষে GBP/USD পেয়ারের মূল্য বৃদ্ধি পেতে পারে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে 5-মিনিটের টাইমফ্রেমে এই পেয়ারের একটি সেল সিগন্যাল গঠিত হয়েছে। এই পেয়ারের মূল্যের 1.3456-1.3476 এরিয়া ব্রেক করতে সংগ্রাম পরিলক্ষিত হয়েছে, যা শর্ট পজিশন ওপেন করার সুযোগ সৃষ্টি করে। মঙ্গলবার এই পেয়ারের কোনো উল্লেখযোগ্য দরপতন ঘটেনি, তাই আজও শর্ট পজিশন হোল্ড করে রাখার বিষয়টি বিবেচনা করা যায়।
ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে GBP/USD পেয়ারের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা গঠিত হতে শুরু হয়েছে, তবে ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি অবনতি ঘটায় দ্রুত তা ম্লান হয়ে যায়। মধ্যপ্রাচ্যে পুনরায় পূর্ণমাত্রার সংঘাত শুরু না হলে মার্কিন ডলারের দর ফেব্রুয়ারি ও মার্চের মতো বৃদ্ধি পাওয়ার প্রত্যাশা করা কঠিন। পৃথক ঘটনার ভিত্তিতে এখনও মার্কিন ডলারের দর কিছুটা বৃদ্ধি পেতে পারে, তবে আমরা মনে করি না যে মার্কেটে নতুন করে ঝুঁকি এড়ানোর প্রবণতা সৃষ্টি হবে।
বুধবার, যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.3456-1.3476 এরিয়া থেকে বাউন্স করে, তাহলে নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন ওপেন করতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.3380-1.3386 এরিয়ার দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। আর যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.3456-1.3476 এরিয়ার উপরে কনসোলিডেট করে, তাহলে নতুন লং পজিশন বিবেচনা করা যেতে পারে, যেখানে মূল্যের 1.3587-1.3598 এরিয়ার দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। উল্লেখ্য যে মার্কেটে স্বল্প মাত্রার অস্থিরতা বিরাজ করছে।
৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা যেতে পারে: 1.3175-1.3180, 1.3259-1.3267, 1.3319-1.3331, 1.3380-1.3386, 1.3456-1.3476, 1.3587-1.3598, 1.3631-1.3641, 1.3695, এবং 1.3741-1.3751। আজ আবারও যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে তেমন কোনো প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে না এবং সেইসাথে কোনো ইভেন্টও নির্ধারিত নেই; ফলে ট্রেডাররা শুধুমাত্র ভূ-রাজনৈতিক ও টেকনিক্যাল প্রেক্ষাপটের বিশ্লেষণের দিকে বেশি মনোযোগ দেবে।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।