আরও দেখুন
মঙ্গলবারও GBP/USD পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত ছিল—যা মূলত সোমবার শুরু হয়েছিল। মূলত ভূ-রাজনৈতিক চাপ এবং ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বহুল আলোচিত কিন্তু এখন পর্যন্ত অনিশ্চিত চুক্তি ভেস্তে যাওয়ার আশঙ্কায় এই পেয়ারের দরপতন ঘটেছে। গতকাল যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রাস্ফীতি সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও ট্রেডাররা তা উপেক্ষা করেছে; ঠিক যেভাবে শুক্রবার প্রকাশিত 'নন-ফার্ম পেরোল' এবং বেকারত্ব সংক্রান্ত প্রতিবেদনও ট্রেডাররা গুরুত্ব দেয়নি। সুতরাং, আমরা আবারও বলতে পারি যে, ট্রেডাররা বর্তমানে সামষ্টিক অর্থনৈতিক ও মৌলিক প্রেক্ষাপট উপেক্ষা করে চলেছে। যুক্তরাষ্ট্রে মুদ্রাস্ফীতির হার বেড়ে ৩.৮ শতাংশে পৌঁছেছে, যা তাত্ত্বিকভাবে ২০২৬ সালে ফেডারেল রিজার্ভের উপর সুদের হার বৃদ্ধির জন্য চাপ সৃষ্টি করতে পারে; তবে বাস্তবে এমনটি ঘটার সম্ভাবনা খুবই কম। কেভিন ওয়ার্শ—যিনি শীঘ্রই 'ফেড' প্রধানের দায়িত্ব গ্রহণ করতে চলেছেন—তিনি সম্ভবত 'নমনীয়' বা 'ডোভিশ' অবস্থান বজায় রাখবেন। তাছাড়া, মার্কিন শ্রমবাজার এখনো পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি; এমতাবস্থায় নতুন করে কঠোর আর্থিক নীতিমালা গ্রহণ করা হলে তা আবারও কর্মসংস্থান ও ব্যবসা-বাণিজ্যের ওপর নেতিবাচক চাপ সৃষ্টি করবে। তাই, মুদ্রাস্ফীতির হার বৃদ্ধি পেলেও তা এখনো এমন কোনো ইঙ্গিত দিচ্ছে না যে, 'ফেড' আরও 'কঠোর' বা 'হকিশ' অবস্থান গ্রহণ করবে। ফলস্বরূপ, মার্কিন ডলারের মূল্য যে খুব দৃঢ়ভাবে বৃদ্ধি পাবে—এমন প্রত্যাশা করার কোনো সুযোগ নেই।
মঙ্গলবার ৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে, একটি সেল সিগন্যাল গঠিত হয়েছিল। ইউরোপীয় ট্রেডিং সেশনের শুরুর দিকে, এই পেয়ারের মূল্য 1.3587-1.3598 এরিয়া ব্রেক করে নিম্নমুখী হয়, যার ফলে দিনের বেলা ৫০-৬০ পিপস দরপতন ঘটে। দিনের শেষে, নতুন ট্রেডাররা বেশ কয়েকবার ম্যানুয়ালি ট্রেড ক্লোজ করে বেশ ভালো মুনাফা অর্জন করতে পারতেন।
ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে GBP/USD পেয়ারের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় থাকলেও গত তিন সপ্তাহ ধরে সাইডওয়েজ চ্যানেলের মধ্যে ট্রেডিং পরিলক্ষিত হচ্ছে। আমরা ধারণা করছি যে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনার মাত্রা গুরুতরভাবে না বাড়লে ফেব্রুয়ারি ও মার্চে মার্কিন ডলারের দর যতটুকু বৃদ্ধি পেয়েছে তা আর ধরে রাখা সম্ভব হবে না। তবে পৃথক ঘটনার ভিত্তিতে মাঝেমধ্যে মার্কিন ডলারের দর বৃদ্ধি পেতে পারে, যদিও সামগ্রিকভাবে মার্কেটে ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের প্রভাব অনেকটা কমে গেছে। দৈনিক ও সাপ্তাহিক টাইমফ্রেমে পরিলক্ষিত প্রবণতা অনুযায়ী ব্রিটিশ পাউন্ডের মূল্য বৃদ্ধির সম্ভাবনাই বেশি।
বুধবার, যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.3587-1.3598 এরিয়া থেকে বাউন্স করে, তাহলে নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন ওপেন করার কথা ভাবতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.3456-1.3476 এরিয়ার দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। আর যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.3456-1.3476 এরিয়া থেকে বাউন্স করে, তাহলে লং পজিশন ওপেন করা যাবে, যেখানে মূল্যের 1.3587-1.3598 এরিয়ার দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।
৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা যেতে পারে: 1.3175-1.3180, 1.3259-1.3267, 1.3319-1.3331, 1.3380-1.3386, 1.3456-1.3476, 1.3587-1.3598, 1.3695, এবং 1.3741-1.3751। আজ যুক্তরাজ্যে তেমন কোনো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে না বা কোনো ইভেন্টও নির্ধারিত নেই, আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদক মূল্য সূচক প্রকাশিত হবে, যা গতকালের মুদ্রাস্ফীতি প্রতিবেদনের পর খুব বেশি প্রাসঙ্গিক নয়।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।