আরও দেখুন
সোমবার GBP/USD কারেন্সি পেয়ারের মূল্যও বৃদ্ধি পেয়েছে, যদিও দিনটি একটি নতুন দরপতনের সাথে শুরু হয়। মধ্যপ্রাচ্যে নতুন হামলার পর তেলের বাজারের পরিস্থিতি খারাপ হয়ে যাওয়ার কারণে এই দরপতন ঘটেছিল। তেলের দর ব্যারেলপ্রতি $120-এ পৌঁছায়; তবে 'শান্তি স্থাপনকারী' এবং 'মানবতার রক্ষক' ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যাহ্নে ঘোষণা করেন যে তিনি জ্বালানি বাজার স্থিতিশীল করতে চান এবং ইরানের যুদ্ধ শীঘ্রই সমাপ্তির দিকে যাচ্ছে। যেমনই সাধারণত হয়, ট্রাম্প ব্যাখ্যা দেননি কীভাবে ইরানের যুদ্ধ শীঘ্রই শেষ হবে এবং যুক্তরাষ্ট্র তার নির্ধারিত লক্ষ্যসমূহ অর্জন করবে কি না। মনে রাখা উচিত যে ট্রাম্প দৃঢ়ভাবে ইরানের সমস্ত পারমাণবিক মজুদ ধ্বংস করতে চান যাতে আমেরিকা ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র থেকে সুরক্ষিত থাকে। একই সঙ্গে ট্রাম্প ইরানে এমন কোনো সরকারের প্রতিও বিরূপ হবেন না যারা আমেরিকার জন্য অধিক অনুকূল। তবে শুধুমাত্র ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাধ্যমে এসব লক্ষ্য কীভাবে অর্জিত হবে কিনা তা স্পষ্ট নয়। তবু, ট্রাম্প যেকোনো সময় পারমাণবিক স্থাপনা ও সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করার ঘোষণা করে দিতে পারেন, এবং তাহলেই যে যুক্তরাষ্ট্র নিঃশর্তভাবে জয় অর্জন করবে—এই দাবিটি কে যাচাই করবে?
সোমবার 5-মিনিটের টাইমফ্রেমে ইউরোপীয় ট্রেডিং সেশন ভালো যায়নি কারণ মার্কেট তখনও তেল সংকটের ধাক্কায় স্থবির অবস্থায় ছিল। শুধুমাত্র মার্কিন সেশনে এই সংকট কিছুটা শিথিল হওয়ার সম্ভাবনা দেখা যাওয়ায় স্বাভাবিক মুভমেন্ট দেখা যেতে থাকে, এবং তখন জ্বালানি বাজারে উত্তেজনা কমার মধ্যেই পাউন্ডের মূল্য আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বৃদ্ধি পায়। দিনের শেষে ব্রিটিশ পাউন্ডের মূল্য 1.3437-1.3446 এরিয়ায় পৌঁছায় এবং আমাদের মতে সম্ভবত অবশেষে উর্ধ্বমুখী প্রবণতা গঠিত হতে পারে।
ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে GBP/USD পেয়ারের মূল্য অব্যাহতভাবে "ভূ-রাজনৈতিক প্রবণতা" অনুসরণ করছে। মধ্যমেয়াদে মার্কিন ডলারের মূল্য বৃদ্ধির জন্য বৈশ্বিক পর্যায়ে কোনো মৌলিক ভিত্তি নেই, তাই ২০২৬ সালেও আমরা ২০২৫ সাল থেকে শুরু হওয়া বৈশ্বিক উর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকার প্রত্যাশা করছি, যা এই পেয়ারের মূল্যকে অন্ততপক্ষে 1.4000 লেভেলের দিকে নিয়ে যেতে পারে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সামগ্রিক পরিস্থিতি প্রায়শই ব্রিটিশ পাউন্ডের জন্য অনুকূল ছিল না, কারণ মার্কেটের ট্রেডাররা পুরোপুরিভাবে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের উপর ফোকাস করছে—যা অব্যাহতভাবে মার্কিন ডলারের দর বৃদ্ধি ঘটাচ্ছে।
মঙ্গলবার, এই পেয়ারের মূল্য 1.3403-1.3407 এরিয়া থেকে একটি বাউন্স করলে বা 1.3437-1.3446 রেঞ্জের উপরে কনসোলিডেট হলে নতুন ট্রেডাররা লং পজিশন ওপেন করতে পারেন। এই পেয়ারের মূল্য 1.3403-1.3407 এরিয়ার নিচে কনসোলিডেশন করলে মূল্যের 1.3319-1.3331-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে শর্ট পজিশন ওপেন করা যেতে পারে।
৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা যেতে পারে: 1.3096-1.3107, 1.3203-1.3212, 1.3259-1.3267, 1.3319-1.3331, 1.3403-1.3407, 1.3437-1.3446, 1.3484-1.3489, 1.3529-1.3543, 1.3643-1.3652, 1.3695, এবং 1.3741-1.3751। মঙ্গলবার যুক্তরাজ্যে কোনো গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট নির্ধারিত নেই বা কোনো প্রতিবেদনও প্রকাশিত হবে না, আর যুক্তরাষ্ট্রে কেবল স্বল্প গুরুত্বসম্পন্ন ADP প্রতিবেদন এবং বিদ্যমান আবাসন বিক্রয় সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে। তবুও দিনেরবেলা এই পেয়ারের মূল্যের অস্থির ও বিশৃঙ্খল মুভমেন্ট দেখা যেতে পারে।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।