empty
 
 
20.02.2026 08:24 AM
২০ ফেব্রুয়ারি কোন ইভেন্টগুলোর উপর মনোযোগ দেওয়া উচিত? নতুন ট্রেডারদের জন্য ফান্ডামেন্টাল ইভেন্টের বিশ্লেষণ

সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদনের পর্যালোচনা:

This image is no longer relevant


জার্মানি, যুক্তরাজ্য এবং ইউরোজোনে ফেব্রুয়ারি মাসের পরিষেবা ও উৎপাদন খাতের বাণিজ্যিক কার্যক্রম সূচক প্রকাশিত হবে। যদি আসন্ন প্রতিবেদনের ফলাফল একে অপরের সাথে পরস্পরবিরোধী না হয় এবং পূর্বাভাসের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ থাকে, তাহলে মার্কেটে উল্লেখযোগ্য প্রতিক্রিয়া দেখা যেতে পারে। এছাড়া যুক্তরাজ্য খুচরা বিক্রয় সংক্রান্ত প্রতিবেদনও প্রকাশিত হবে। যুক্তরাষ্ট্রে ট্রেডাররা মূলত গত বছরের চতুর্থ প্রান্তিকের জিডিপি প্রতিবেদন (প্রাথমিক অনুমান) এবং কোর PCE সূচকের দিকে দৃষ্টিপাত করবে, যা মুদ্রাস্ফীতির সম্পর্কিত প্রতিবেদন। তবে গত সপ্তাহে প্রকাশিত মার্কিন মুদ্রাস্ফীতি প্রতিবেদনের ফলফল ট্রেডাররা কিছুটা উপেক্ষা করেছিল। আমরা এখনও মনে করি যে ইউরো ও পাউন্ডের চলমান দরপতনগুলো মৌলিক পটভূমির সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।

ফান্ডামেন্টাল ইভেন্টের বিশ্লেষণ:

This image is no longer relevant

শুক্রবারের ফান্ডামেন্টাল ইভেন্টগুলোর মধ্যে শুধুমাত্র ফেডের প্রতিনিধি রাফায়েল বোস্টিকের বক্তব্য বিশেষভাবে উল্লেখ করা যেতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে শ্রমবাজার, বেকারত্ব এবং মুদ্রাস্ফীতি সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর আমরা ফেডের আর্থিক নীতিমালা সংক্রান্ত কমিটির সদস্যদের বক্তব্যে পরিবর্তনের আশা করেছিলাম; তবে ফেড কর্মকর্তাদের প্রাথমিক বক্তৃতাগুলোতে 'নিরপেক্ষ' অবস্থান অব্যাহত থাকার ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছে। আমরা মনে করি যে ফেডের অবস্থান শীঘ্রই আরও 'ডোভিশ' বা নমনীয় হতে পারে, কারণ মার্কিন মুদ্রাস্ফীতির হার 2%-এর দিকে যাচ্ছে। তবে মুদ্রাস্ফীতি কেবল 2.4%-এর আশেপাশে থেমে থাকাই নয়—সূচকটির হার ধারাবাহিকভাবে নেমে আসতেই হবে। সংক্ষেপে বলতে গেলে বর্তমানে ফেড কর্তৃক তীব্রতর 'ডোভিশ' বা নমনীয় অবস্থান গ্রহণের কোনো ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে না, কিন্তু এই কারণেই যে দুই সপ্তাহ ধরে মার্কিন ডলারের দর বৃদ্ধি পাচ্ছে সেটি বলা যাচ্ছে না।

উপসংহার:

চলতি সপ্তাহের শেষদিনের ট্রেডিংয়ে আজ বেশ কয়েকটি প্রতিবেদন প্রকাশের কথা থাকায় মার্কেটে সক্রিয়ভাবে ট্রেডিং দেখা যেতে পারে। ইউরো আজ 1.1745-1.1754 রেঞ্জে ট্রেড করা যেতে পারে, আর ব্রিটিশ পাউন্ড 1.3437-1.3446 রেঞ্জে ট্রেড করা যেতে পারে। আমরা এখনও মার্কিন মুদ্রার শক্তিশালী ও স্থায়ী প্রবৃদ্ধির কোনো ভিত্তি দেখতে পাচ্ছি না, তবে উভয় কারেন্সি পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী প্রবণতা পরিলক্ষিত হচ্ছে।

ট্রেডিং সিস্টেমের মূল নিয়মাবলী:

  1. সিগনালের শক্তি: যত দ্রুত একটি সিগন্যাল (রিবাউন্ড বা ব্রেকআউট) গঠিত হয়, সিগন্যালটিকে ততই শক্তিশালী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
  2. ভুল সিগন্যাল: যদি কোনো লেভেলের কাছে দুই বা ততোধিক ভুল ট্রেডিং সিগনাল গঠিত হয়, তাহলে ঐ লেভেল থেকে প্রাপ্ত পরবর্তী সিগন্যালগুলোকে উপেক্ষা করা উচিত।
  3. ফ্ল্যাট মার্কেট: যখন মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্ট দেখা যায়, তখন পেয়ারগুলোতে একাধিক ভুল সিগন্যাল গঠিত হতে পারে অথবা কোনো সিগন্যাল না-ও গঠিত হতে পারে। মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্টের ইঙ্গিত পাওয়ামাত্র ট্রেডিং বন্ধ করে দেওয়াই ভালো।
  4. ট্রেডিংয়ের সময়সূচী: ইউরোপীয় সেশন শুরু থেকে মার্কিন সেশনের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ট্রেড ওপেন করুন এবং এরপর সকল ট্রেড ম্যানুয়ালি ক্লোজ করে ফেলুন।
  5. MACD সিগন্যাল: ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে কেবল সেই MACD সিগন্যালগুলোর ওপর ভিত্তি করে ট্রেড করুন, যেগুলো উচ্চ মাত্রার অস্থিরতা এবং ট্রেন্ডলাইন বা ট্রেন্ড চ্যানেলের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রবণতা হিসেবে বিবেচিত।
  6. নিকটতম লেভেল: যদি দুটি লেভেল খুব কাছাকাছি (৫–২০ পিপসের মধ্যে) অবস্থিত হয়, তাহলে সেগুলোকে সাপোর্ট বা রেজিস্ট্যান্স জোন হিসেবে বিবেচনা করুন।
  7. স্টপ লস: মূল্য কাঙ্ক্ষিত দিকের দিকে ১৫ পিপস মুভমেন্ট প্রদর্শন করলে, ব্রেকইভেনে স্টপ লস সেট করুন। এতে করে ভুল সিগন্যালের কারণে লোকসানের ঝুঁকি কমে আসে।

চার্টে কী কী রয়েছে:

  • সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্স লেভেল: এই লেভেলগুলো পজিশন ওপেন বা ক্লোজ করার ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে কাজ করে এবং টেক প্রফিট সেট করার ক্ষেত্রেও উপযোগী।
  • লাল লাইনসমূহ: চ্যানেল বা ট্রেন্ডলাইন, যা বর্তমান প্রবণতা এবং ট্রেডের সম্ভাব্য দিকনির্দেশনা প্রদান করে।
  • MACD ইনডিকেটর (14,22,3): হিস্টোগ্রাম এবং সিগন্যাল লাইন বিশ্লেষণের জন্য একটি অতিরিক্ত ট্রেডিং সিগন্যালের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।

ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

Recommended Stories

এখন কথা বলতে পারবেন না?
আপনার প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করুন চ্যাট.