empty
 
 
18.02.2026 08:49 AM
১৮ ফেব্রুয়ারি কোন ইভেন্টগুলোর উপর মনোযোগ দেওয়া উচিত? নতুন ট্রেডারদের জন্য ফান্ডামেন্টাল ইভেন্টের বিশ্লেষণ

সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদনের পর্যালোচনা:

This image is no longer relevant

মঙ্গলবার বেশ কয়েকটি সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার কথা রয়েছে। প্রথমত, যুক্তরাজ্যের ভোক্তা মূল্য সূচক (CPI) বেশ উল্লেখযোগ্য — প্রত্যাশা করা হচ্ছে ব্রিটেনের মুদ্রাস্ফীতির 3%-এ নেমে আসবে, যা পরবর্তী বৈঠকে ব্যাংক অব ইংল্যান্ডকে মূল সুদের হার হ্রাসের সিদ্ধান্ত নিতে প্ররোচিত করতে পারে। স্বাভাবিকভাবেই, এটি ব্রিটিশ পাউন্ডের জন্য নেতিবাচক সংবাদ। মুদ্রাস্ফীতির হার যত কম হবে, ব্রিটিশ মুদ্রার সম্ভাব্য দরপতনের মাত্রা তত বেশি হতে পারে। দ্বিতীয়ত, যুক্তরাষ্ট্রে বিল্ডিং পারমিট, হাউজিং স্টার্টস, শিল্প উৎপাদন এবং ডিউরেবল গুডস অর্ডস সংক্রান্ত প্রতিবেদনগুলো প্রকাশিত হবে — এই প্রতিবেদনগুলোর ফলাফল বিকেলের দিকে ট্রেডারদের সেন্টিমেন্টের উপর প্রভাব ফেলতে পারে।

ফান্ডামেন্টাল ইভেন্টের বিশ্লেষণ:

This image is no longer relevant

বুধবারের ফান্ডামেন্টাল ইভেন্টগুলোর মধ্যে ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তা ইসাবেল স্নাবেল ও ফেডারেল রিজার্ভের প্রতিনিধি মিশেল বোম্যানের বক্তব্যের ওপর দৃষ্টি দেয়া উচিত। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজার, বেকারত্ব ও মুদ্রাস্ফীতি প্রতিবেদন প্রকাশের পর ফেডের সদস্যদের অবস্থানের পরিবর্তন ঘটার প্রত্যাশা করা যায়। আমরা মনে করি, যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রাস্ফীতি 2%-এর দিকে আসার সঙ্গে সঙ্গে ফেডের অবস্থান আরও 'ডোভিশ বা নমনীয়' হতে পারে। ফেডের সদস্যের বক্তব্যে নমনীয় অবস্থান প্রতিফলিত হলে মার্কেটে মার্কিন ডলার বিক্রি করার জন্য আরেকটি কারণ হিসেবে কাজ করবে। ইসিবির ক্ষেত্রে, ইউরোজোনের সর্বশেষ মুদ্রাস্ফীতি প্রতিবেদনে সূচকটির হার 1.7%-এ নেমে এসে মন্থরতার ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছে। যদি মুদ্রাস্ফীতির হ্রাস অব্যাহত থাকে, তাহলে ইসিবি নতুন করে মুদ্রানীতি নমনীয় করতে বাধ্য হবে, যদিও বর্তমানে ক্রিস্টিন লাগার্ডে এমন পরিস্থিতি এড়ানোর চেষ্টা করছেন।

উপসংহার:

চলতি সপ্তাহের দ্বিতীয় দিনের ট্রেডিংয়ে উভয় কারেন্সি পেয়ারেরই খুবই দুর্বল মুভমেন্ট দেখা যেতে পারে, কারণ আজ উল্লেখযোগ্য ইভেন্টের সংখ্যা বেশ কম। ইউরো 1.1830-1.1831 এরিয়া থেকে ট্রেড করা যেতে পারে, এবং ব্রিটিশ পাউন্ড 1.3643-1.3652 এরিয়া থেকে ট্রেড করা যেতে পারে (গতকাল এখানে একটি সেল সিগন্যাল গঠিত হয়েছিল)। আমরা এখনও মার্কিন ডলারের মূল্য বৃদ্ধির জন্য কোনো ভিত্তি দেখতে পাচ্ছি না। আজ আবারও মার্কেটে স্বল্প মাত্রার অস্থিরতা বিরাজ করতে পারে।

ট্রেডিং সিস্টেমের মূল নিয়মাবলী:

  1. সিগনালের শক্তি: যত দ্রুত একটি সিগন্যাল (রিবাউন্ড বা ব্রেকআউট) গঠিত হয়, সিগন্যালটিকে ততই শক্তিশালী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
  2. ভুল সিগন্যাল: যদি কোনো লেভেলের কাছে দুই বা ততোধিক ভুল ট্রেডিং সিগনাল গঠিত হয়, তাহলে ঐ লেভেল থেকে প্রাপ্ত পরবর্তী সিগন্যালগুলোকে উপেক্ষা করা উচিত।
  3. ফ্ল্যাট মার্কেট: যখন মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্ট দেখা যায়, তখন পেয়ারগুলোতে একাধিক ভুল সিগন্যাল গঠিত হতে পারে অথবা কোনো সিগন্যাল না-ও গঠিত হতে পারে। মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্টের ইঙ্গিত পাওয়ামাত্র ট্রেডিং বন্ধ করে দেওয়াই ভালো।
  4. ট্রেডিংয়ের সময়সূচী: ইউরোপীয় সেশন শুরু থেকে মার্কিন সেশনের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ট্রেড ওপেন করুন এবং এরপর সকল ট্রেড ম্যানুয়ালি ক্লোজ করে ফেলুন।
  5. MACD সিগন্যাল: ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে কেবল সেই MACD সিগন্যালগুলোর ওপর ভিত্তি করে ট্রেড করুন, যেগুলো উচ্চ মাত্রার অস্থিরতা এবং ট্রেন্ডলাইন বা ট্রেন্ড চ্যানেলের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রবণতা হিসেবে বিবেচিত।
  6. নিকটতম লেভেল: যদি দুটি লেভেল খুব কাছাকাছি (৫–২০ পিপসের মধ্যে) অবস্থিত হয়, তাহলে সেগুলোকে সাপোর্ট বা রেজিস্ট্যান্স জোন হিসেবে বিবেচনা করুন।
  7. স্টপ লস: মূল্য কাঙ্ক্ষিত দিকের দিকে ১৫ পিপস মুভমেন্ট প্রদর্শন করলে, ব্রেকইভেনে স্টপ লস সেট করুন। এতে করে ভুল সিগন্যালের কারণে লোকসানের ঝুঁকি কমে আসে।

চার্টে কী কী রয়েছে:

  • সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্স লেভেল: এই লেভেলগুলো পজিশন ওপেন বা ক্লোজ করার ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে কাজ করে এবং টেক প্রফিট সেট করার ক্ষেত্রেও উপযোগী।
  • লাল লাইনসমূহ: চ্যানেল বা ট্রেন্ডলাইন, যা বর্তমান প্রবণতা এবং ট্রেডের সম্ভাব্য দিকনির্দেশনা প্রদান করে।
  • MACD ইনডিকেটর (14,22,3): হিস্টোগ্রাম এবং সিগন্যাল লাইন বিশ্লেষণের জন্য একটি অতিরিক্ত ট্রেডিং সিগন্যালের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।

ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

Recommended Stories

এখন কথা বলতে পারবেন না?
আপনার প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করুন চ্যাট.