empty
 
 
17.02.2026 08:55 AM
১৭ ফেব্রুয়ারি কোন ইভেন্টগুলোর উপর মনোযোগ দেওয়া উচিত? নতুন ট্রেডারদের জন্য ফান্ডামেন্টাল ইভেন্টের বিশ্লেষণ

সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদনের পর্যালোচনা:

This image is no longer relevant

মঙ্গলবার বেশ কয়েকটি সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে, তবু এর মধ্যে অল্প কয়েকটিই গুরুত্বপূর্ণ ও আকর্ষণীয়। আমাদের যুক্তরাজ্যে প্রকাশিতব্য প্রতিবেদন থেকে শুরু করা উচিত, কারণ সেগুলোই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আজ যুক্তরাজ্যে বেকারত্ব, বেকারভাতার আবেদন ও মজুরি সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে। আমাদের মতে, এই প্রতিবেদনগুলোর ফলাফল সম্ভবত মার্কেটে শক্তিশালী প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করবে না। আজকের অন্যান্য প্রকাশিতব্য প্রতিবেদনগুলোর (ইউরোজোন ও যুক্তরাষ্ট্রে) প্রভাবেও মার্কেটে উল্লেখযোগ্য প্রতিক্রিয়া সৃষ্টির সম্ভাবনা কম। উদাহরণস্বরূপ, জার্মানির মুদ্রাস্ফীতি প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে, তবে এটি স্বল্প গুরুত্বসম্পন্ন প্রাথমিক অনুমান যা ট্রেডাররা সাধারণত গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করেন না। ইউরোপে ZEW ইনস্টিটিউট থেকে অর্থনৈতিক মনোভাব সংক্রান্ত সূচকগুলোর ফলাফল আরও বেশি আকর্ষণীয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রে সাপ্তাহিক ADP প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে, কিন্তু ট্রেডাররা সাধারণত মাসিক প্রতিবেদন ও নন-ফার্ম পে-রোল প্রতিবেদনের ফলাফলের প্রতি বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকেন।

ফান্ডামেন্টাল ইভেন্টের বিশ্লেষণ:

This image is no longer relevant

মঙ্গলবারের ফান্ডামেন্টাল ইভেন্টগুলোর মধ্যে ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও ফেডারেল রিজার্ভের প্রতিনিধিদের কয়েকটি বক্তব্য উল্লেখযোগ্য। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজার, বেকারত্ব ও মুদ্রাস্ফীতি প্রতিবেদন প্রকাশের পর ফেড সদস্যদের বক্তব্যে নীতিগত অবস্থানের পরিবর্তন প্রতিফলিত হতে পারে। আমরা মনে করি যে মার্কিন মুদ্রাস্ফীতির হার ২%-এর কাছাকাছি পৌছালে ফেড 'ডোভিশ' বা নীতিগতভাবে নমনীয় অবস্থান গ্রহণ করতে পারে। ফেড সদস্যগণ নমনীয় অবস্থান গ্রহণের ইঙ্গিত দিলে সেটি মার্কেটে মার্কিন ডলার বিক্রি করার আরেকটি কারণ হিসেবে কাজ করবে। ইসিবির ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে মুদ্রাস্ফীতির হার 1.7%-এ নেমে এসেছে। যদি এই ইউরোজোনের মুদ্রাস্ফীতি অব্যাহতভাবে কমতে থাকে, তাহলে ইসিবিকে নতুন করে আর্থিক নীতিমালা নমনীয় করতে বাধ্য হতে পারে, যদিও ক্রিস্টিন লাগার্ডে বর্তমানে এমন একটি পরিস্থিতি এড়ানোর চেষ্টা করছেন।


উপসংহার:

চলতি সপ্তাহের দ্বিতীয় দিনের ট্রেডিংয়ে উভয় কারেন্সি পেয়ারের খুবই শান্তভাবে ট্রেডিং দেখা যেতে পারে, কারণ আজ উল্লেখযোগ্য ইভেন্টের সংখ্যা বেশ কম। ইউরো 1.1830-1.1831 এরিয়া থেকে ট্রেড করা যেতে পারে, এবং ব্রিটিশ পাউন্ড 1.3643-1.3652 এরিয়া থেকে ট্রেড করা যেতে পারে (গতকাল এখানে একটি সেল সিগন্যাল গঠিত হয়েছিল)। আমরা এখনও মার্কিন ডলারের মূল্য বৃদ্ধির জন্য কোনো ভিত্তি দেখতে পাচ্ছি না। আজ আবারও মার্কেটে স্বল্প মাত্রার অস্থিরতা বিরাজ করতে পারে।

ট্রেডিং সিস্টেমের মূল নিয়মাবলী:

  1. সিগনালের শক্তি: যত দ্রুত একটি সিগন্যাল (রিবাউন্ড বা ব্রেকআউট) গঠিত হয়, সিগন্যালটিকে ততই শক্তিশালী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
  2. ভুল সিগন্যাল: যদি কোনো লেভেলের কাছে দুই বা ততোধিক ভুল ট্রেডিং সিগনাল গঠিত হয়, তাহলে ঐ লেভেল থেকে প্রাপ্ত পরবর্তী সিগন্যালগুলোকে উপেক্ষা করা উচিত।
  3. ফ্ল্যাট মার্কেট: যখন মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্ট দেখা যায়, তখন পেয়ারগুলোতে একাধিক ভুল সিগন্যাল গঠিত হতে পারে অথবা কোনো সিগন্যাল না-ও গঠিত হতে পারে। মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্টের ইঙ্গিত পাওয়ামাত্র ট্রেডিং বন্ধ করে দেওয়াই ভালো।
  4. ট্রেডিংয়ের সময়সূচী: ইউরোপীয় সেশন শুরু থেকে মার্কিন সেশনের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ট্রেড ওপেন করুন এবং এরপর সকল ট্রেড ম্যানুয়ালি ক্লোজ করে ফেলুন।
  5. MACD সিগন্যাল: ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে কেবল সেই MACD সিগন্যালগুলোর ওপর ভিত্তি করে ট্রেড করুন, যেগুলো উচ্চ মাত্রার অস্থিরতা এবং ট্রেন্ডলাইন বা ট্রেন্ড চ্যানেলের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রবণতা হিসেবে বিবেচিত।
  6. নিকটতম লেভেল: যদি দুটি লেভেল খুব কাছাকাছি (৫–২০ পিপসের মধ্যে) অবস্থিত হয়, তাহলে সেগুলোকে সাপোর্ট বা রেজিস্ট্যান্স জোন হিসেবে বিবেচনা করুন।
  7. স্টপ লস: মূল্য কাঙ্ক্ষিত দিকের দিকে ১৫ পিপস মুভমেন্ট প্রদর্শন করলে, ব্রেকইভেনে স্টপ লস সেট করুন। এতে করে ভুল সিগন্যালের কারণে লোকসানের ঝুঁকি কমে আসে।

চার্টে কী কী রয়েছে:

  • সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্স লেভেল: এই লেভেলগুলো পজিশন ওপেন বা ক্লোজ করার ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে কাজ করে এবং টেক প্রফিট সেট করার ক্ষেত্রেও উপযোগী।
  • লাল লাইনসমূহ: চ্যানেল বা ট্রেন্ডলাইন, যা বর্তমান প্রবণতা এবং ট্রেডের সম্ভাব্য দিকনির্দেশনা প্রদান করে।
  • MACD ইনডিকেটর (14,22,3): হিস্টোগ্রাম এবং সিগন্যাল লাইন বিশ্লেষণের জন্য একটি অতিরিক্ত ট্রেডিং সিগন্যালের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।

ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

Recommended Stories

এখন কথা বলতে পারবেন না?
আপনার প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করুন চ্যাট.