empty
 
 
16.02.2026 08:26 AM
১৬ ফেব্রুয়ারি কীভাবে GBP/USD পেয়ারের ট্রেডিং করবেন? নতুন ট্রেডারদের জন্য ট্রেডিংয়ের সহজ পরামর্শ ও বিশ্লেষণ

শুক্রবারের ট্রেডিংয়ের পর্যালোচনা:

GBP/USD পেয়ারের 1-ঘন্টার চার্ট

This image is no longer relevant

শুক্রবার মূলত স্বল্পমাত্রার অস্থিরতার মধ্যে সাইডওয়েজ রেঞ্জের মধ্যে GBP/USD পেয়ারের ট্রেডিং করা হয়েছে। মোট কথা, এই পেয়ারের মূল্য ডিসেন্ডিং ট্রেন্ড লাইন ব্রেক করে ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার পরও আমরা কোনো উল্লেখযোগ্য মুভমেন্ট দেখতে পাইনি। ব্রিটিশ পাউন্ড ধীরে ধীরে দরপতনের শিকার হচ্ছে, যদিও মার্কেটে পাউন্ডের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বিরাজ করছে, এবং এখনও মার্কিন ডলারের দর বৃদ্ধির জন্য কোনো উল্লেখযোগ্য কারণে দেখা যাচ্ছে না। আমাদের মতে গত সপ্তাহে প্রকাশিত মার্কিন সামষ্টিক প্রতিবেদনের ফলাফল অনুযায়ী নতুন করে ডলার দরপতন হওয়া উচিত ছিল, কারণ মুদ্রাস্ফীতি প্রতিবেদন প্রকাশের পরে নতুন করে ফেডের মূল সুদের হার হ্রাসের সম্ভাবনা বেড়ে গিয়েছে। সেইসাথে, শ্রমবাজার পরিস্থিতির পুনরুদ্ধারের ব্যাপারে আমরা সম্পূর্ণভাবে আত্মবিশ্বাসী নই, কারণ 2025 সালে মাত্র 180,000টি কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে—এটি মার্কিন অর্থনীতির ক্ষেত্রে খুবই কম। সুতরাং আমরা প্রকাশিত মার্কিন সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদনের ফলাফলকে নেতিবাচক হিসেবে মূল্যায়ন করছি। ব্রিটেন থেকে প্রকাশিত প্রতিবেদনের ফলাফল আশানুরুপ ছিল না, তবে মার্কেটের ট্রেডাররা মূলত যুক্তরাষ্ট্রের মার্কিন সামষ্টিক প্রতিবেদনের ফলাফলের দিকে বেশি মনোযোগ দিয়ে থাকে।

GBP/USD পেয়ারের 5M চার্ট

This image is no longer relevant

শুক্রবার 5-মিনিট টাইমফ্রেমে দুইটি ট্রেডিং সিগন্যাল গঠিত হয়েছে। এই পেয়ারের মূল্য 1.3643-1.3652 রেঞ্জ থেকে দু'বার বাউন্স করেছে, কিন্তু কেবল 20 পিপসই অগ্রসর হয়। এটুকু মুভমেন্টই ব্রেকইভেনে স্টপ-লস সেট করার জন্য যথেষ্ট ছিল এবং সেই মুহূর্তে ট্রেড ক্লোজ করা হয়। সিগন্যালগুলো একে অপরের অনুরূপ ছিল।

সোমবার কীভাবে ট্রেডিং করতে হবে:

ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে GBP/USD পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী প্রবণতার সমাপ্তি ঘটেছে। মধ্যমেয়াদে ডলারের দর বৃদ্ধির জন্য বৈশ্বিক পর্যায়ে কোনো কারণ দেখা যাচ্ছে না, ফলে আমরা আশা করছি যে ২০২৫ থেকে চলমান বৈশ্বিক উর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকবে, যা এই পেয়ারের মূল্যকে অন্তত 1.4000 পর্যন্ত নিয়ে যেতে পারে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ব্রিটিশ মুদ্রার সার্বিক পরিস্থিতি বিশেষভাবে অনুকূল ছিল না, এবং কয়েক সপ্তাহ জুড়ে সক্রিয় মুভমেন্টের পর মার্কেট আবারও নিষ্ক্রিয়তার দিকে ফিরে যাচ্ছে।

সোমবার, এই পেয়ারের মূল্য 1.3643-1.3652 এরিয়া থেকে বাউন্স করলে নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন ওপেন করার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.3529-1.3543-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। এই পেয়ারের মূল্য 1.3643-1.3652 এরিয়ার ওপরে কনসোলিডেশন করলে লং পজিশন ওপেন করা যাবে, যেখানে মূল্যের 1.3741-1.3751-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।

৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা যেতে পারে: 1.3319-1.3331, 1.3365, 1.3403-1.3407, 1.3437-1.3446, 1.3484-1.3489, 1.3529-1.3543, 1.3643-1.3652, 1.3741-1.3751, 1.3814-1.3832, 1.3891-1.3912, 1.3975।সোমবার যুক্তরাজ্য বা যুক্তরাষ্ট্রে কোনো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে না বা কোনো ইভেন্টও নির্ধারিত নেই; ফলে সারাদিন জুড়ে ট্রেডারদের প্রতিক্রিয়া জানানোর মতো কিছুই থাকবে না। ফলে আমরা মার্কেটে দুর্বল মুভমেন্টের প্রত্যাশা করছি।

ট্রেডিং সিস্টেমের মূল নিয়মাবলী:

  1. সিগনালের শক্তি: যত দ্রুত একটি সিগন্যাল (রিবাউন্ড বা ব্রেকআউট) গঠিত হয়, সিগন্যালটিকে ততই শক্তিশালী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
  2. ভুল সিগন্যাল: যদি কোনো লেভেলের কাছে দুই বা ততোধিক ভুল ট্রেডিং সিগনাল গঠিত হয়, তাহলে ঐ লেভেল থেকে প্রাপ্ত পরবর্তী সিগন্যালগুলোকে উপেক্ষা করা উচিত।
  3. ফ্ল্যাট মার্কেট: যখন মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্ট দেখা যায়, তখন পেয়ারগুলোতে একাধিক ভুল সিগন্যাল গঠিত হতে পারে অথবা কোনো সিগন্যাল না-ও গঠিত হতে পারে। মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্টের ইঙ্গিত পাওয়ামাত্র ট্রেডিং বন্ধ করে দেওয়াই ভালো।
  4. ট্রেডিংয়ের সময়সূচী: ইউরোপীয় সেশন শুরু থেকে মার্কিন সেশনের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ট্রেড ওপেন করুন এবং এরপর সকল ট্রেড ম্যানুয়ালি ক্লোজ করে ফেলুন।
  5. MACD সিগন্যাল: ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে কেবল সেই MACD সিগন্যালগুলোর ওপর ভিত্তি করে ট্রেড করুন, যেগুলো উচ্চ মাত্রার অস্থিরতা এবং ট্রেন্ডলাইন বা ট্রেন্ড চ্যানেলের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রবণতা হিসেবে বিবেচিত।
  6. নিকটতম লেভেল: যদি দুটি লেভেল খুব কাছাকাছি (৫–২০ পিপসের মধ্যে) অবস্থিত হয়, তাহলে সেগুলোকে সাপোর্ট বা রেজিস্ট্যান্স জোন হিসেবে বিবেচনা করুন।
  7. স্টপ লস: মূল্য কাঙ্ক্ষিত দিকের দিকে ১৫ পিপস মুভমেন্ট প্রদর্শন করলে, ব্রেকইভেনে স্টপ লস সেট করুন। এতে করে ভুল সিগন্যালের কারণে লোকসানের ঝুঁকি কমে আসে।

চার্টে কী কী রয়েছে:

  • সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্স লেভেল: এই লেভেলগুলো পজিশন ওপেন বা ক্লোজ করার ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে কাজ করে এবং টেক প্রফিট সেট করার ক্ষেত্রেও উপযোগী।
  • লাল লাইনসমূহ: চ্যানেল বা ট্রেন্ডলাইন, যা বর্তমান প্রবণতা এবং ট্রেডের সম্ভাব্য দিকনির্দেশনা প্রদান করে।
  • MACD ইনডিকেটর (14,22,3): হিস্টোগ্রাম এবং সিগন্যাল লাইন বিশ্লেষণের জন্য একটি অতিরিক্ত ট্রেডিং সিগন্যালের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।

ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

Recommended Stories

এখন কথা বলতে পারবেন না?
আপনার প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করুন চ্যাট.