আরও দেখুন
বুধবার মাত্র কয়েক ঘণ্টা EUR/USD পেয়ারের ট্রেডিং পরিলক্ষিত হয়েছে। মার্কিন শ্রমবাজার ও বেকারত্ব সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশের আগে মার্কেটে স্থবিরতা ও শান্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছিল, এবং উক্ত প্রতিবেদন প্রকাশের কিছুক্ষণ পরেই মার্কেটে আবার স্বাভাবিক ছন্দ ফিরে আসে। প্রথম যে বিষয়টি লক্ষণীয় তা হলো—কোনো তীব্র অস্থিরতা দেখা যায়নি; অস্থিরতার মাত্রা সত্যিই কয়েক ঘণ্টার জন্য বেড়েছিল, এবং নন-ফার্ম পে-রোল ও বেকারত্বের হার সংক্রান্ত প্রতিবেদনের কিছুটা ইতিবাচক ফলাফলের প্রভাবে ডলারের দর বৃদ্ধি পেয়েছে। জানুয়ারিতে নন-ফার্ম খাতে পে-রোল 130,000 ছিল, যা সর্বোচ্চ পূর্বাভাস 70,000-এর অনেক বেশি, এবং বেকারত্ব হার 4.3%-এ নেমে এসেছে—এরকম ফলাফল কেউই প্রত্যাশা করেননি। ফলে ডলারের মূল্য বৃদ্ধির বিষয়টি যুক্তিসঙ্গত, কিন্তু এই প্রবণতা কতদিন স্থায়ী হবে? বৃহস্পতিবার সকালের মার্কিন মুদ্রার দর 25 পিপস বেড়েছে। মার্কিন প্রতিবেদনের শক্তিশালী ফলাফল প্রকাশের ফলে ট্রেডাররা হয়তো ডলারের মূল্যের আরও বেশি উত্থানের আশা করেছিলেন। এই বিষয়টি কি এই ইঙ্গিত দেয় না যে সামগ্রিকভাবে ট্রেডাররা মার্কিন ডলার কেনার ব্যাপারে আগ্রহী নয়? উল্লেখ্য যে গত ১৩ মাসে মার্কিন মুদ্রার দরপতনের মূল কারণ কিন্তু শ্রমবাজার পরিস্থিতি অবনতি নয়...
বুধবার 5-মিনিটের টাইমফ্রেমে তিনটি ট্রেডিং সিগন্যাল গঠিত হয়েছিল। সকালবেলায় এই পেয়ারের মূল্য 1.1899-1.1908 এরিয়াটি ব্রেক করে ঊর্ধ্বমুখী, তবে মার্কিন সেশন শুরুর আগে এই পেয়ারের মূল্য মাত্র 10 পিপস বৃদ্ধি পেয়েছিল। নন-ফার্ম পে-রোল ও বেকারত্বের হার সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশের আগে ট্রেডগুলো ম্যানুয়ালি ক্লোজ করা উচিত ছিল, কারণ এই পেয়ারের মূল্য যেকোনো দিকে দ্রুত মুভমেন্ট প্রদর্শন করতে পারত। 1.1899-1.1908 এরিয়ার নিচে কনসোলিডেশনের ফলে গঠিত সেল সিগন্যাল কাজে লাগানোর কোনো সুযোগ ছিল না, কারণ মাত্র 5 মিনিটে এই পেয়ারের 70 পিপস দরপতন ঘটে। তবে 1.1830-1.1837 এরিয়ার থেকে বাউন্স কাজে লাগিয়ে মুনাফা করার চেষ্টা করা যেত, যদিও সেখানেও এন্ট্রি পয়েন্টটি আদর্শ ছিল না।
ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে এই পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী করেকশন এখনও কার্যকর আছে, তবে শীঘ্রই আবার উর্ধ্বমুখী প্রবণতা শুরু হতে পারে। মনে রাখবেন যে এই পেয়ারের মূল্যের সাত মাসব্যাপী দৃশ্যমান ফ্ল্যাট রেঞ্জভিত্তিক মুভমেন্ট সম্পন্ন হয়েছে। যদি সত্যিই তা হয়ে থাকে, তবে ২০২৬ সালের শুরুতে দীর্ঘমেয়াদী ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা পুনরুদ্ধার হয়েছে। অতএব, আমরা মধ্যমেয়াদে নতুন করে ডলারের দরপতনের প্রত্যাশা করছি। মার্কিন ডলারের জন্য সামগ্রিক মৌলিক পটভূমি বেশ চ্যালেঞ্জিং রয়ে গেছে, যা ইউরোর মূল্যের আরও উর্ধ্বমুখী প্রবণতার সম্ভাবনা নির্দেশ করে।
বৃহস্পতিবার, যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.1830-1.1837 এরিয়ার নিচে কনসোলিডেট করে বা 1.1899-1.1908 এরিয়া থেকে বাউন্স করে, তাহলে নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন ওপেন করার কথা বিবেচনা করতে পারেন। এই পেয়ারের মূল্য 1.1899-1.1908 এরিয়ার ওপরে কনসোলিডেশন করলে লং পজিশন ওপেন করা যাবে, যেখানে মূল্যের 1.1970-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।
৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে, ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা উচিত: 1.1455-1.1474, 1.1527-1.1531, 1.1550, 1.1584-1.1591, 1.1655-1.1666, 1.1745-1.1754, 1.1830-1.1837, 1.1899-1.1908, 1.1970-1.1988, 1.2044-1.2056, এবং 1.2092-1.2104। আজ ইউরোজোনে কোনো উল্লেখযোগ্য প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে না বা কোনো ইভেন্টও নির্ধারিত নেই, আর যুক্তরাষ্ট্রে কেবল নতুন আবাসন বিক্রয় ও আনএমপ্লয়মেন্ট ক্লেইমস সম্পর্কিত স্বল্প গুরুত্বসম্পন্ন প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।