empty
 
 
10.02.2026 08:18 AM
১০ ফেব্রুয়ারি কীভাবে GBP/USD পেয়ারের ট্রেডিং করবেন? নতুন ট্রেডারদের জন্য ট্রেডিংয়ের সহজ পরামর্শ ও বিশ্লেষণ

সোমবারের ট্রেডিংয়ের পর্যালোচনা:

GBP/USD পেয়ারের 1-ঘন্টার চার্ট

This image is no longer relevant

সোমবার মার্কেটে আবারো মার্কিন ডলারের প্রতি চাহিদা হ্রাসের প্রেক্ষাপটে GBP/USD পেয়ারের মূল্যের উর্ধ্বমুখী প্রবণতা পরিলক্ষিত হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে পাউন্ড স্টার্লিংয়ের মূল্যের নিম্নমুখী প্রবণতা বজায় ছিল। গতকাল এই পেয়ারের মূল্য ডিসেন্ডিং ট্রেন্ডলাইন ব্রেক করে উপরের দিকে যাওয়ায় উর্ধ্বমুখী প্রবণতা শুরু হয়েছে। ফলে আমরা হায়ার টাইমফ্রেমে দৃশ্যমান উর্ধ্বমুখী প্রবণতার বিপরীতে তাৎপর্যপূর্ণ করেকশন হতে দেখেছি। তাই এখন এই প্রবণতার একটি নতুন ধাপ শুরু হতে পারে। মনে রাখবেন যে গত সপ্তাহে মার্কিন শ্রমবাজার সংক্রান্ত চারটি প্রতিবেদন প্রকাশের কথা ছিল; তার মধ্যে কেবল সবচেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ দুইটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। এসব প্রতিবেদনে শ্রমবাজারের পরিস্থিতির আরও অবনতি পরিলক্ষিত হয়েছে। এই সপ্তাহে বাকি থাকা ননফার্ম পেরোল এবং বেকারত্বের হার সংক্রান্ত প্রতিবেদনগুলো প্রকাশিত হবে, যেগুলোর ফলাফল ডলারের উপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করতে পারে। যদি শ্রমবাজার পরিস্থিতি সাম্প্রতিক মাসগুলোর মতো অপরিবর্তিত থেকে যায়, তাহলে ফেডারেল রিজার্ভ পুনরায় সুদের হার হ্রাসের সিদ্ধান্ত নিতে পারে। ফেডের আর্থিক নীতিমালা নতুন করে নমনীয় করা না হলেও ডলার দরপতন ঘটবে; আর নীতিমালা নমনীয় করা হলে তো ডলারের দ্রুত এবং তীব্র দরপতন ঘটবে।

GBP/USD পেয়ারের 5M চার্ট

This image is no longer relevant

সোমবার ৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে গঠিত সিগন্যালগুলো ততটা কার্যকর ছিল না। মার্কিন ট্রেডিং সেশনে এই পেয়ারের মূল্য প্রথমে 1.3643-1.3652 এরিয়া থেকে বাউন্স করে, এবং পরে সেটি ব্রেক করে। প্রথম সিগন্যালটি স্পষ্টভাবে ভুল প্রমাণিত হয়, তবে দ্বিতীয় সিগন্যাল থেকে নতুন ট্রেডাররা কয়েক ডজন পিপস আয় করার সুযোগ পেয়েছেন। ট্রেন্ডলাইন ব্রেক হওয়ায় লং পজিশনগুলো আজ পর্যন্ত ওপেন রাখা যেতে পারে এবং আরও দর বৃদ্ধির সম্ভাবনা বজায় রয়েছে।

মঙ্গলবার কীভাবে ট্রেডিং করতে হবে:

ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে GBP/USD পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী প্রবণতার সমাপ্তি ঘটেছে। মধ্যমেয়াদে ডলারের দর বৃদ্ধির জন্য বৈশ্বিক পর্যায়ে কোনো ভিত্তি নেই, তাই 2026 সালে আমরা 2025 থেকে শুরু হওয়া বৈশ্বিক উর্ধ্বমুখী প্রবণতার অব্যাহত থাকার প্রত্যাশা করছি, যা অন্ততপক্ষে এই পেয়ারের মূল্যকে 1.4000 পর্যন্ত নিয়ে যেতে পারে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ব্রিটিশ মুদ্রার সার্বিক পরিস্থিতি খুব একটা অনুকূল ছিল না, তবে এখন পাউন্ডের মূল্যের 1.38 লেভেলে ফিরে আসার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।

মঙ্গলবার, যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.3643-1.3652 এরিয়ার নিচে কনসোলিডেট করে, তাহলে নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন ওপেন করা বিবেচনা করতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.3529-1.3543-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। এই পেয়ারের মূল্য 1.3643-1.3652 এরিয়ার ওপর কনসোলিডেশন করলে লং পজিশন হোল্ড করে রাখা যেতে পারে, যেখানে মূল্যের 1.3741-1.3751-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।

৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে ট্রেডিংয়ের জন্য বিবেচ্য লেভেলসমূহ: 1.3319-1.3331, 1.3365, 1.3403-1.3407, 1.3437-1.3446, 1.3484-1.3489, 1.3529-1.3543, 1.3643-1.3652, 1.3741-1.3751, 1.3814-1.3832, 1.3891-1.3912, এবং 1.3975। মঙ্গলবার যুক্তরাজ্যে কোনো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে না বা কোনো ইভেন্টও নির্ধারিত নেই, ট্রেডাররা মূলত যুক্তরাষ্ট্রের খুচরা বিক্রয় সংক্রান্ত প্রতিবেদনের দিকে দৃষ্টিপাত করবেন।

ট্রেডিং সিস্টেমের মূল নিয়মাবলী:

  1. সিগনালের শক্তি: যত দ্রুত একটি সিগন্যাল (রিবাউন্ড বা ব্রেকআউট) গঠিত হয়, সিগন্যালটিকে ততই শক্তিশালী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
  2. ভুল সিগন্যাল: যদি কোনো লেভেলের কাছে দুই বা ততোধিক ভুল ট্রেডিং সিগনাল গঠিত হয়, তাহলে ঐ লেভেল থেকে প্রাপ্ত পরবর্তী সিগন্যালগুলোকে উপেক্ষা করা উচিত।
  3. ফ্ল্যাট মার্কেট: যখন মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্ট দেখা যায়, তখন পেয়ারগুলোতে একাধিক ভুল সিগন্যাল গঠিত হতে পারে অথবা কোনো সিগন্যাল না-ও গঠিত হতে পারে। মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্টের ইঙ্গিত পাওয়ামাত্র ট্রেডিং বন্ধ করে দেওয়াই ভালো।
  4. ট্রেডিংয়ের সময়সূচী: ইউরোপীয় সেশন শুরু থেকে মার্কিন সেশনের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ট্রেড ওপেন করুন এবং এরপর সকল ট্রেড ম্যানুয়ালি ক্লোজ করে ফেলুন।
  5. MACD সিগন্যাল: ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে কেবল সেই MACD সিগন্যালগুলোর ওপর ভিত্তি করে ট্রেড করুন, যেগুলো উচ্চ মাত্রার অস্থিরতা এবং ট্রেন্ডলাইন বা ট্রেন্ড চ্যানেলের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রবণতা হিসেবে বিবেচিত।
  6. নিকটতম লেভেল: যদি দুটি লেভেল খুব কাছাকাছি (৫–২০ পিপসের মধ্যে) অবস্থিত হয়, তাহলে সেগুলোকে সাপোর্ট বা রেজিস্ট্যান্স জোন হিসেবে বিবেচনা করুন।
  7. স্টপ লস: মূল্য কাঙ্ক্ষিত দিকের দিকে ১৫ পিপস মুভমেন্ট প্রদর্শন করলে, ব্রেকইভেনে স্টপ লস সেট করুন। এতে করে ভুল সিগন্যালের কারণে লোকসানের ঝুঁকি কমে আসে।

চার্টে কী কী রয়েছে:

  • সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্স লেভেল: এই লেভেলগুলো পজিশন ওপেন বা ক্লোজ করার ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে কাজ করে এবং টেক প্রফিট সেট করার ক্ষেত্রেও উপযোগী।
  • লাল লাইনসমূহ: চ্যানেল বা ট্রেন্ডলাইন, যা বর্তমান প্রবণতা এবং ট্রেডের সম্ভাব্য দিকনির্দেশনা প্রদান করে।
  • MACD ইনডিকেটর (14,22,3): হিস্টোগ্রাম এবং সিগন্যাল লাইন বিশ্লেষণের জন্য একটি অতিরিক্ত ট্রেডিং সিগন্যালের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।

ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

Recommended Stories

এখন কথা বলতে পারবেন না?
আপনার প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করুন চ্যাট.