আরও দেখুন
সোমবার EUR/USD কারেন্সি পেয়ারের মূল্যের তীব্র উর্ধ্বমুখী মুভমেন্ট শুরু হয়েছে। গতকাল কোনো গুরুত্বপূর্ণ সামষ্টিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি বা কোনো ফান্ডামেন্টাল ইভেন্টও ছিল না, শুধুমাত্র চীন থেকে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানা যায় যে দেশটির সরকার চীনা ব্যাংকগুলোকে মার্কিন সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ করা থেকে বিরত থাকার "পরামর্শ" দিয়েছে। এই খবরের প্রভাবে মার্কেটে আবারো মার্কিন ডলারের চাহিদা হ্রাস পেতে পারে। তবে এটি ছাড়াও ডলারের দরপতনের যথেষ্ট কারণ ছিল। কয়েক সপ্তাহ আগে এই পেয়ারের মূল্য সাত মাসব্যাপী দৃশ্যমান ফ্ল্যাট রেঞ্জ থেকে বেরিয়ে এসেছিল—যা একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত ছিল। দীর্ঘমেয়াদে এই পেয়ারের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা পুনরায় শুরু হয়েছে, তাই আমরা কেবলমাত্র এই পেয়ারের মূল্য বৃদ্ধিরই প্রত্যাশা করছি। অবশ্যই করেকশন হবে; গত সপ্তাহে আমরা এমন একটি করেকশন হতে দেখেছি। কিন্তু সামগ্রিকভাবে আমরা শীঘ্রই ইউরোর মূল্যের 1.20 লেভেলের ওপরে যাওয়ার প্রত্যাশা করছি। ২০২৬ সালে এই পেয়ারের মূল্য বৃদ্ধির কোনো সীমা থাকবে না বলে মনে করা হচ্ছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের গৃহীত সিদ্ধান্ত যতটাই আলোচিত ও বিতর্কিত হবে, বিশ্বমঞ্চে ততটাই ডলারের দরপতন ঘটবে বলে আমরা ধারণা করছি।
সোমবার ৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে, ইউরোপীয় ট্রেডিং সেশনের ঠিক শুরুতেই একটি চমৎকার সিগন্যাল গঠিত হয়। এই পেয়ারের মূল্য 1.1830-1.1837 রেঞ্জ ব্রেক করে ঊর্ধ্বমুখী হয়, যা নতুন ট্রেডারদের জন্য তুলনামূলকভাবে সহজে লং পজিশন ওপেন করার সুযোগ দিয়েছিল। মার্কিন সেশনের শুরুতে এই পেয়ারের মূল্য 1.1899-1.1908 এরিয়া অতিক্রম করে। ফলে ট্রেডাররা তাদের লং পজিশন বেশ ভালো মুনাফার সাথে ক্লোজ করতে পেরেছিল বা আরও বেশি মুনাফার আশায় ওপেন করে রেখেছিল।
ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে এই পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী করেকশন অব্যাহত রয়েছে, যা শীঘ্রই আবার উর্ধ্বমুখী প্রবণতায় রূপ নিতে পারে। মনে করিয়ে দেই যে এই পেয়ারের মূল্যের সাত মাসব্যাপী দৃশ্যমান ফ্ল্যাট রেঞ্জভিত্তিক মুভমেন্ট সম্পন্ন হয়েছে। যদি সত্যিই তা হয়ে থাকে, তবে ২০২৬ সালের শুরুতে দীর্ঘমেয়াদী ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা পুনরুদ্ধার হয়েছে। অতএব, আমরা মধ্যমেয়াদে নতুন করে ডলারের দরপতনের প্রত্যাশা করছি। মার্কিন ডলারের জন্য সামগ্রিক মৌলিক পটভূমি বেশ চ্যালেঞ্জিং রয়ে গেছে, যা ইউরোর মূল্যের আরও উর্ধ্বমুখী প্রবণতার সম্ভাবনা নির্দেশ করে।
মঙ্গলবার, যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.1899-1.1908 এরিয়ার নিচে কনসোলিডেট করে, তাহলে নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন ওপেন করার কথা বিবেচনা করতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.1830-1.1837-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। এই পেয়ারের মূল্য 1.1899-1.1908 এরিয়ার ওপরে কনসোলিডেশন করলে লং পজিশন ওপেন করা যাবে, যেখানে মূল্যের 1.1970-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।
৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে, ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা উচিত: 1.1455-1.1474, 1.1527-1.1531, 1.1550, 1.1584-1.1591, 1.1655-1.1666, 1.1745-1.1754, 1.1830-1.1837, 1.1899-1.1908, 1.1970-1.1988, 1.2044-1.2056, 1.2092-1.2104। আজ ইউরোজোনে কোনো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে না বা কোনো ইভেন্টও নির্ধারিত নেই, আর যুক্তরাষ্ট্রে ADP (সাপ্তাহিক) শ্রমবাজার প্রতিবেদন এবং খুচরা বিক্রয় সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে। এই প্রতিবেদনগুলোর ফলাফল মার্কেটে সামান্য প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে কিন্তু মার্কেটের সামগ্রিক পরিস্থিতিতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলার সম্ভাবনা কম।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।