empty
 
 
09.02.2026 07:35 AM
৯ ফেব্রুয়ারি কীভাবে EUR/USD পেয়ারের ট্রেডিং করবেন? নতুন ট্রেডারদের জন্য ট্রেডিংয়ের সহজ পরামর্শ ও বিশ্লেষণ

শুক্রবারের ট্রেডিংয়ের পর্যালোচনা:

EUR/USD পেয়ারের 1-ঘন্টার চার্ট

This image is no longer relevant

শুক্রবার দিনের অধিকাংশ সময় EUR/USD কারেন্সি পেয়ারের মূল্যের উর্ধ্বমুখী প্রবণতা পরিলক্ষিত হয়েছে। এটি বলা যায় না যে কোনো সামষ্টিক প্রেক্ষাপট বা ফান্ডামেন্টাল ইভেন্টের প্রভাবে এই মুভমেন্টটি ঘটেছে। সারাদিন জুড়ে ট্রেডাররা কেবল দুটি ইভেন্টের দিকে দৃষ্টিপাত করেছিল: সেগুলো হচ্ছে জার্মানির শিল্প উৎপাদন ও যুক্তরাষ্ট্রের কনজিউমার সেন্টিমেন্ট সূচক। চলুন এই দুইটি সূচকের ফলাফল জেনে নেই। সাম্প্রতিক প্রবণতার সাথে সঙ্গতি রেখে জার্মানির শিল্প উৎপাদন সূচক শক্তিশালী ফলাফল দেখায়নি—সূচকটি প্রায় -0.3% থাকার পূর্বাভাস দেয়া সত্ত্বেও প্রকৃত ফলাফল -1.9% ছিল। অতএব প্রতিবেদনটির এইরূপ ফলাফল ইউরোর মূল্য বৃদ্ধি ঘটাতে পারেনি। মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত কনজিউমার সেন্টিমেন্ট সূচকের ফলাফল প্রত্যাশার চাইতে ইতিবাচক ছিল, যা এই পেয়ারের দরপতন এবং ডলারের দর বৃদ্ধি ঘটাতে পারত। কিন্তু সেটাও ঘটেনি। ফলে সারাদিন ধরে সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট এই পেয়ারের মূল্যের মুভমেন্টে তেমন কোনো প্রভাব ফেলেনি। এই পেয়ারের মূল্য ধারাবাহিকভাবে চার দিন ধরে 1.1754 এবং 1.1837 এর মধ্যে অবস্থান করছে, তাই বলা যায় আমরা একটি ফ্ল্যাট রেঞ্জভিত্তিক মুভমেন্ট দেখতে পাচ্ছি। বর্তমানে এই পেয়ারের মূল্য ঐ রেঞ্জের উপরের সীমানার কাছাকাছি অবস্থান করছে।

EUR/USD 5M পেয়ারের চার্ট

This image is no longer relevant

শুক্রবার ৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে কোনো ট্রেডিং সিগন্যাল গঠিত হয়নি। সারাদিন এই পেয়ারের মূল্যের অস্থিরতার মাত্রা খুবই দুর্বল ছিল, এবং কেবল গতরাতে 1.1830-1.1837 এরিয়ায় এই পেয়ারের ট্রেডিং পরিলক্ষিত হয়েছে, যা পজিশন ওপেন করার সুযোগ দিয়েছিল। অতএব শুক্রবার নতুন ট্রেডারদের কোনো ট্রেড ওপেন করার জন্য যথাযথ ভিত্তি ছিল না।

সোমবার কীভাবে ট্রেডিং করতে হবে:

ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে এই পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী করেকশন অব্যাহত আছে, যা একটি স্থানীয় প্রবণতা হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। মনে করিয়ে দেই যে এই পেয়ারের মূল্যের সাত মাসব্যাপী দৃশ্যমান ফ্ল্যাট রেঞ্জভিত্তিক মুভমেন্ট সম্পন্ন হয়েছে। যদি সত্যিই তা হয়ে থাকে, তবে ২০২৬ সালের শুরুতে দীর্ঘমেয়াদী ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা পুনরুদ্ধার হয়েছে। অতএব, আমরা মধ্যমেয়াদে নতুন করে ডলারের দরপতনের প্রত্যাশা করছি। মার্কিন ডলারের জন্য সামগ্রিক মৌলিক পটভূমি বেশ চ্যালেঞ্জিং রয়ে গেছে, যা ইউরোর মূল্যের আরও উর্ধ্বমুখী প্রবণতার সম্ভাবনা নির্দেশ করে।

সোমবার, এই পেয়ারের মূল্য 1.1830-1.1837 এরিয়া থেকে বাউন্স করলে নতুন ট্রেডাররা নতুন শর্ট পজিশন ওপেন করার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.1745-1.1754-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। এই পেয়ারের মূল্য 1.1830-1.1837 এরিয়ার ওপর কনসোলিডেশন করলে লং পজিশন ওপেন করা যেতে পারে, যেখানের মূল্যের 1.1908-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যাবে।

৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে, ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা উচিত: 1.1354-1.1363, 1.1413, 1.1455-1.1474, 1.1527-1.1531, 1.1550, 1.1584-1.1591, 1.1655-1.1666, 1.1745-1.1754, 1.1830-1.1837, 1.1908, 1.1970-1.1988, 1.2044-1.2056, 1.2092-1.2104।

আজ ইউরোজোনে ক্রিস্টিন লাগার্ড একটি বক্তব্য দেবেন; সর্বশেষ তিনি গত বৃহস্পতিবার ইসিবি বৈঠকের পরে বক্তব্য দিয়েছেন। তাই আমরা তার কাছ থেকে কোনো গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণার আশা করছি না। যুক্তরাষ্ট্রে আজ কোনো ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হবে না, সেইসাথে কোনো প্রতিবেদন প্রকাশেরও কথা নেই। তাই সম্ভবত আমরা একটি বিরক্তিকর সোমবারের মুখোমুখি হতে যাচ্ছি।

ট্রেডিং সিস্টেমের মূল নিয়মাবলী:

  1. সিগনালের শক্তি: যত দ্রুত একটি সিগন্যাল (রিবাউন্ড বা ব্রেকআউট) গঠিত হয়, সিগন্যালটিকে ততই শক্তিশালী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
  2. ভুল সিগন্যাল: যদি কোনো লেভেলের কাছে দুই বা ততোধিক ভুল ট্রেডিং সিগনাল গঠিত হয়, তাহলে ঐ লেভেল থেকে প্রাপ্ত পরবর্তী সিগন্যালগুলোকে উপেক্ষা করা উচিত।
  3. ফ্ল্যাট মার্কেট: যখন মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্ট দেখা যায়, তখন পেয়ারগুলোতে একাধিক ভুল সিগন্যাল গঠিত হতে পারে অথবা কোনো সিগন্যাল না-ও গঠিত হতে পারে। মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্টের ইঙ্গিত পাওয়ামাত্র ট্রেডিং বন্ধ করে দেওয়াই ভালো।
  4. ট্রেডিংয়ের সময়সূচী: ইউরোপীয় সেশন শুরু থেকে মার্কিন সেশনের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ট্রেড ওপেন করুন এবং এরপর সকল ট্রেড ম্যানুয়ালি ক্লোজ করে ফেলুন।
  5. MACD সিগন্যাল: ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে কেবল সেই MACD সিগন্যালগুলোর ওপর ভিত্তি করে ট্রেড করুন, যেগুলো উচ্চ মাত্রার অস্থিরতা এবং ট্রেন্ডলাইন বা ট্রেন্ড চ্যানেলের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রবণতা হিসেবে বিবেচিত।
  6. নিকটতম লেভেল: যদি দুটি লেভেল খুব কাছাকাছি (৫–২০ পিপসের মধ্যে) অবস্থিত হয়, তাহলে সেগুলোকে সাপোর্ট বা রেজিস্ট্যান্স জোন হিসেবে বিবেচনা করুন।
  7. স্টপ লস: মূল্য কাঙ্ক্ষিত দিকের দিকে ১৫ পিপস মুভমেন্ট প্রদর্শন করলে, ব্রেকইভেনে স্টপ লস সেট করুন। এতে করে ভুল সিগন্যালের কারণে লোকসানের ঝুঁকি কমে আসে।

চার্টে কী কী রয়েছে:

  • সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্স লেভেল: এই লেভেলগুলো পজিশন ওপেন বা ক্লোজ করার ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে কাজ করে এবং টেক প্রফিট সেট করার ক্ষেত্রেও উপযোগী।
  • লাল লাইনসমূহ: চ্যানেল বা ট্রেন্ডলাইন, যা বর্তমান প্রবণতা এবং ট্রেডের সম্ভাব্য দিকনির্দেশনা প্রদান করে।
  • MACD ইনডিকেটর (14,22,3): হিস্টোগ্রাম এবং সিগন্যাল লাইন বিশ্লেষণের জন্য একটি অতিরিক্ত ট্রেডিং সিগন্যালের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।

ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

Recommended Stories

এখন কথা বলতে পারবেন না?
আপনার প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করুন চ্যাট.