আরও দেখুন
মঙ্গলবার EUR/USD পেয়ারের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী মুভমেন্ট অব্যাহত ছিল। যেমনটি আমরা উল্লেখ করেছি, ইউরোর দর বৃদ্ধির জন্য এখন কোনো স্থানীয় প্রতিবেদন বা খবরের প্রয়োজন নেই। এই পেয়ারের মূল্য 1.1400-1.1830-এর ফ্ল্যাট রেঞ্জ থেকে বেরিয়ে এসেছে, যেখানে মূল্য সাত মাস অবস্থান করেছে, এবং এই বিষয়টি একটি নতুন প্রবণতার সূচনা নির্দেশ করছে। অথবা সম্ভবত পুরনো প্রবণতাই অব্যাহত রয়েছে। নতুন বছরে পুনরায় ডলারের দরপতন শুরু করানোর জন্য ডোনাল্ড ট্রাম্প সবকিছুই করেছেন, এবং গতকাল তিনি প্রকাশ্যে বলেছেন যে ডলারের দরপতন নিয়ে তিনি চিন্তিত নন—এতে ডলারের দরপতন আরও ত্বরানিত হয়েছে। ফলে গতকাল এই পেয়ারের মূল্য 1.21 লেভেলের কাছাকাছি পৌঁছেছিল, এবং এটি মূল্যের সর্বোচ্চ লেভেল থেকে অনেক দূরে। মনে রাখতে হবে যে ২০২৬ সাল কেবল শুরু হয়েছে, এবং ইতোমধ্যেই এমন অনেক ঘটনা ঘটেছে যা পুরো বছরের জন্যই যথেষ্ট—আর সেগুলোর প্রতিটিই মার্কিন মুদ্রার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
মঙ্গলবার প্রায় কোনো গুরুত্বপূর্ণ সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি, এবং প্রকাশিত কোনো প্রতিবেদনই এই পেয়ারের মূল্যের মুভমেন্টে প্রভাব ফেলেনি। ক্রিস্টিন লাগার্ডের বক্তৃতাও নতুন করে ইউরোর দর বৃদ্ধিকে উদ্দীপিত করতে ব্যর্থ হয়েছিল।
5-মিনিটের টাইমফ্রেমে মঙ্গলবার একাধিক ট্রেডিং সিগন্যাল গঠিত হয়েছিল। প্রথমে এই পেয়ারের মূল্য 1.1908 লেভেল ব্রেক করে ঊর্ধ্বমুখী হয়, এরপর 1.1970-1.1988 এরিয়া অতিক্রম করেছে, এরপর মূল্য 1.2044-1.2056 এরিয়ায় পৌঁছায়, যেখানেই ঊর্ধ্বমুখী মুভমেন্ট শেষ হয়। সারাদিনজুড়ে ইউরোপীয় মুদ্রার দর প্রায় 160 পিপস বৃদ্ধি পেয়েছে। 1.1908 লেভেল থেকে ওপেন করা একটি লং পজিশন নতুন ট্রেডারদের প্রায় 120 পিপস মুনাফা এনে দিতে পারত।
ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে এই পেয়ারের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা গঠিত হচ্ছে। সোমবার রাতে এই পেয়ারের মূল্য 1.1800–1.1830 এবং মূলত 1.1400–1.1830-এর এরিয়ার উপরে স্থিতিশীল অবস্থান গ্রহণ করায় এই পেয়ারের মূল্য সাত মাসব্যাপী দৃশ্যমান ফ্ল্যাট রেঞ্জ থেকে বেরিয়ে এসেছে বলে ধরা হচ্ছে। মার্কিন ডলারের জন্য সামগ্রিক মৌলিক এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক পটভূমি এখনও বেশ নেতিবাচক রয়ে গেছে, তাই আমরা ইউরোর আরও দর বৃদ্ধির প্রত্যাশা করছি।
বুধবার, এই পেয়ারের মূল্য 1.1970-1.1988 এরিয়া থেকে রিবাউন্ড করলে নতুন ট্রেডাররা নতুন লং পজিশন ওপেন করতে পারবেন, যেখানে মূল্যের 1.2044-1.2056 এবং 1.2092-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। এই পেয়ারের মূল্য 1.1970-1.1988 এরিয়ার নিচে কনসোলিডেট করলে শর্ট পজিশন ওপেন করা যাবে, যেখানে এই পেয়ারের মূল্যের 1.1908-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যায়।
5-মিনিটের টাইমফ্রেমে ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলসমূহ বিবেচনা করা যেতে পারে: 1.1354-1.1363, 1.1413, 1.1455-1.1474, 1.1527-1.1531, 1.1550, 1.1584-1.1591, 1.1655-1.1666, 1.1745-1.1754, 1.1830-1.1837, 1.1908, 1.1970-1.1988, 1.2044-1.2056, and 1.2092-1.2104.
আজ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ফেডের বৈঠকের ফলাফল ঘোষণা করা হবে, যা মার্কেটের সামগ্রিক পরিস্থিতিকে উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাবিত করবে বলে মনে হয় না। আমরা মনে করি, এই বৈঠকের ফলাফল যাই হোক না কেন মার্কিন ডলারের দরপতন হতে থাকবে। নিশ্চিতভাবেই প্রতিদিন তা ঘটবে না, কিন্তু মাঝে মাঝে তা ঘটতে থাকবে।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।