empty
 
 
19.01.2026 09:25 AM
১৯ জানুয়ারি কোন ইভেন্টগুলোর উপর মনোযোগ দেওয়া উচিত? নতুন ট্রেডারদের জন্য ফান্ডামেন্টাল ইভেন্টের বিশ্লেষণ

সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদনের পর্যালোচনা:

This image is no longer relevant

সোমবার খুব বেশি সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে না। একমাত্র উল্লেখযোগ্য প্রতিবেদন হিসেবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ডিসেম্বরের ভোক্তা মূল্য সূচক (CPI)-এর দ্বিতীয় মূল্যায়ন প্রকাশিত হবে। মনে রাখবেন যে মুদ্রাস্ফীতির দ্বিতীয় মূল্যায়ন সাধারণত প্রথমটির তুলনায় খুব কমই আলাদা হয়। এই মুহূর্তে ইইউ-এর মুদ্রাস্ফীতির হার ইউরোর জন্য কোনো বড় সমস্যা নয় এবং ট্রেডারদের জন্য এটি খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে না। এর কারণ হল গত ৬ মাস ধরে ইইউ-এর মুদ্রাস্ফীতির হার ধারাবাহিকভাবে ইসিবির লক্ষ্যমাত্রার কাছাকাছি অবস্থান করেছে। ফলে মুদ্রাস্ফীতির হার ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুদ্রানীতিকে প্রভাবিত করছে না। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্যে ১৯ জানুয়ারির ইভেন্ট ক্যালেন্ডারে তেমন কিছুই অন্তর্ভুক্ত নেই।

ফান্ডামেন্টাল ইভেন্টের বিশ্লেষণ:

This image is no longer relevant


সোমবার তেমন কোনো ফান্ডামেন্টাল ইভেন্টও নির্ধারিত নেই, মার্কেটের ট্রেডাররা এখনো গুরুত্বপূর্ণ সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদনগুলো উপেক্ষা করে যাচ্ছে যা যুক্তরাজ্য, ইইউ ও মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গৃহীত অবস্থানের উপর প্রভাব ফেলতে পারে। বাস্তবিক অর্থে ফান্ডামেন্টাল ইভেন্টগুলোর প্রতিও প্রায় কোনোই প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে না। তা না হলে ডোনাল্ড ট্রাম্পের কর্মকাণ্ড ইতোমধ্যেই মার্কিন ডলারের ব্যাপক দরপতন ঘটাতে পারত। মনে রাখবেন যে ডলার এখনও বিনিয়োগকারীদের কাছে একটি নিরাপদ মুদ্রা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে, কিন্তু যখন সেই দেশের রাষ্ট্রপ্রধান প্রকাশ্যে গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের কথা বলেন বা ইরানের অভ্যুত্থানে হস্তক্ষেপের প্রয়োজনীয়তার উল্লেখ করেন — তখন কি সেই মুদ্রাকে সত্যিই নিরাপদ বলা যেতে পারে? ট্রাম্প সম্ভবত তেহরানের বার্তা পাওয়ার পর ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলার পরিকল্পনা বাদ দিয়েছেন, যেখানে তেহরান বিক্ষোভকারীদের হত্যাকাণ্ড বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু গ্রিনল্যান্ডকে ঘিরে পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে। ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ডকে "যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়" হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং বলেছেন এটি আমেরিকার অংশ হিসেবে একটি নতুন অঙ্গরাজ্য হওয়া উচিত।


উপসংহার:

চলতি সপ্তাহের প্রথম দিনের ট্রেডিংয়ে উভয় কারেন্সি পেয়ারের বিশৃংখল এবং ন্যূনতম অস্থিরতার সঙ্গে ট্রেডিং অব্যাহত থাকতে পারে। আজ 1.1655–1.1666 এরিয়ায় ইউরোর ট্রেড করা যেতে পারে, এবং রাতের বেলায় নতুন ট্রেডাররা লং পজিশন ওপেন করতে পারে। পাউন্ড স্টার্লিং আজ 1.3437–1.3446 এবং 1.3319–1.3331 এরিয়ার মধ্যে ট্রেড করা যেতে পারে।

ট্রেডিং সিস্টেমের মূল নিয়মাবলী:

  1. সিগনালের শক্তি: যত দ্রুত একটি সিগন্যাল (রিবাউন্ড বা ব্রেকআউট) গঠিত হয়, সিগন্যালটিকে ততই শক্তিশালী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
  2. ভুল সিগন্যাল: যদি কোনো লেভেলের কাছে দুই বা ততোধিক ভুল ট্রেডিং সিগনাল গঠিত হয়, তাহলে ঐ লেভেল থেকে প্রাপ্ত পরবর্তী সিগন্যালগুলোকে উপেক্ষা করা উচিত।
  3. ফ্ল্যাট মার্কেট: যখন মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্ট দেখা যায়, তখন পেয়ারগুলোতে একাধিক ভুল সিগন্যাল গঠিত হতে পারে অথবা কোনো সিগন্যাল না-ও গঠিত হতে পারে। মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্টের ইঙ্গিত পাওয়ামাত্র ট্রেডিং বন্ধ করে দেওয়াই ভালো।
  4. ট্রেডিংয়ের সময়সূচী: ইউরোপীয় সেশন শুরু থেকে মার্কিন সেশনের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ট্রেড ওপেন করুন এবং এরপর সকল ট্রেড ম্যানুয়ালি ক্লোজ করে ফেলুন।
  5. MACD সিগন্যাল: ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে কেবল সেই MACD সিগন্যালগুলোর ওপর ভিত্তি করে ট্রেড করুন, যেগুলো উচ্চ মাত্রার অস্থিরতা এবং ট্রেন্ডলাইন বা ট্রেন্ড চ্যানেলের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রবণতা হিসেবে বিবেচিত।
  6. নিকটতম লেভেল: যদি দুটি লেভেল খুব কাছাকাছি (৫–২০ পিপসের মধ্যে) অবস্থিত হয়, তাহলে সেগুলোকে সাপোর্ট বা রেজিস্ট্যান্স জোন হিসেবে বিবেচনা করুন।
  7. স্টপ লস: মূল্য কাঙ্ক্ষিত দিকের দিকে ১৫ পিপস মুভমেন্ট প্রদর্শন করলে, ব্রেকইভেনে স্টপ লস সেট করুন। এতে করে ভুল সিগন্যালের কারণে লোকসানের ঝুঁকি কমে আসে।

চার্টে কী কী রয়েছে:

  • সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্স লেভেল: এই লেভেলগুলো পজিশন ওপেন বা ক্লোজ করার ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে কাজ করে এবং টেক প্রফিট সেট করার ক্ষেত্রেও উপযোগী।
  • লাল লাইনসমূহ: চ্যানেল বা ট্রেন্ডলাইন, যা বর্তমান প্রবণতা এবং ট্রেডের সম্ভাব্য দিকনির্দেশনা প্রদান করে।
  • MACD ইনডিকেটর (14,22,3): হিস্টোগ্রাম এবং সিগন্যাল লাইন বিশ্লেষণের জন্য একটি অতিরিক্ত ট্রেডিং সিগন্যালের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।

ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

Recommended Stories

এখন কথা বলতে পারবেন না?
আপনার প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করুন চ্যাট.